ঢাকা সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২রা আশ্বিন ১৪২৬


শেখ হাসিনার ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে মরিয়া সোহাগ-জাকির!


১৯ মে ২০১৯ ১৫:৩৪

আপডেট:
২১ মে ২০১৯ ১৩:০৫

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে তার মূলেই রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও এস এম জাকির হোসাইন!
জানা যায়, পুরনো আধিপত্য ধরে রাখতে শেখ হাসিনার ঘোষিত কমিটি বিতর্কিত করার চেষ্টায় মাঠে নামিয়েছে সোহাগ জাকিরের মদদপুষ্ট ছাত্রদল,শিবির ও হাইব্রীডদের। বিতর্কিতদের শীর্ষ পদ নিশ্চিত করতেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুককে অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে বেঁছে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সোহাগ জাকিরের বিরুদ্ধে।

আরো জানা যায়, ছাত্রলীগ নিয়ে নিয়ে কলকাঠি নাড়ছেন সংগঠনের সদ্য সাবেক হওয়া সভাপতি এম সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। তাদের অনুসারীই পদ পাননি।কারণ যেখানে ওই সিন্ডিকেট চাইছিল ৩০১ জনের কমিটির মধ্যে তাদের অনুগতই ১৫০ জনকে রাখতে। তাই নতুন কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে

নেমেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের অনুসারীরা। এ কারণে শেখ হাসিনার মনোনীত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান না নিলেও সোহাগ-জাকির তাদের নিজস্ব কর্মী কয়েকজনকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এমনকি গতকাল শনিবার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি পদবঞ্চিতদের প্রতিনিধি দলের এক নেত্রীকে ১১ টা ৫৫ মিনিটে ফোন করেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। রাত সাড়ে ১০ টা থেকে তাদের জন্য টিএসসির মাঠে অপেক্ষায় থাকা শোভনকে ওই নারী নেত্রী যিনি উপ সম্পাদক পদ পেয়েছেন এবং ডাকসুর নেতা হওয়ার পরও জানান, আমরা এখন পরিবাগে আছি। সেখান থেকে আসছি। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ দুই নেতার বাসা পরীবাগে পাশাপাশিই।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিএম লিপি আক্তারের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলটি সাড়ে ১২ টার দিকে টিএসসির মাঠে প্রবেশ করে। এসময় বিএম লিপি আক্তারের আক্রমণাত্নক মনোভাব নিয়ে প্রবেশ করার ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনিই ছাত্রলীগের একমাত্র নারী নেত্রী, যাকে কিছুই দেয়া হয়নি। সবচে বেশি ত্যাগী নেত্রীই তিনি। অনেকটা ক্যাডার বাহিনীর মতো মাঠে প্রবেশ করার পর সেখানে দীর্ঘক্ষণ শোভন রাব্বানীর সঙ্গে বিতর্কিতদের বিষয়ে আলোচনা হয়।

তখন বিএম লিপি আক্তারের নেতৃত্বে যাওয়া প্রতিনিধি দলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তোমরা কেন লিখিত অভিযোগ দায়ের করো নাই? তখন কেউ কেউ শোভন রাব্বানীকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠেন বিতকির্ত কমিটি করেছেন, আপনারাই বিতর্কিত; তাই কোনো অভিযোগ নেইনি।

একপর্যায়ে বিতর্কিতদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কেন এসব নোংরামি করা হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিদ্রোহীরা উত্তেজিত হয়ে পরে। তখন শোভন রাব্বানী নয়, শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে নানা বাজে মন্তব্য করে। একপর্যায়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাজে কথা বললে, শোভন রাব্বানীর নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে কিছুটা উত্তম মাধ্যম দেয় বিদ্রোহীদের।

তখন শোভন ও রাব্বানী বিদ্রোহীদের বাঁচাতে প্রাণপণ লড়াই করেন তাদের নিজস্ব নেতাকর্মীদের সঙ্গে। কিন্তু নেতাকর্মীরা তাদের আবেগের জায়গা শেখ হাসিনা, যিনি ছাত্রলীগের পরিপূর্ণ গঠনতন্ত্র বলে বিশ্বাস করেন, সেখানে কোনো আপস না করে উত্তম মাধ্যম দিয়ে দেন।

কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আগদিন পর্যন্ত সোহাগ জাকিরকে শোভন ও রাব্বানী বিশেষ অনুরোধ করলেও তারা নিজেদের করা ২৮১ সদস্যের কমিটি অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। তখন বিভিন্ন পত্রিকায় শোভন রাব্বানীকে ডেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শোভন রাব্বানীর করা ৩০১ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দিয়ে দেন।

এরপর থেকেই শেখ হাসিনার ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করেন সোহাগ-জাকির।
ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা তাদের ‘চাহিদামতো ভাগ’ না পাওয়ায় পদবঞ্চিতদের ইন্ধন দিয়ে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়েছেন কিছু ছাত্রলীগ কর্মীকে। নতুন কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলন যারা করছেন তাদের অনেকেই নতুন কমিটিতে আছেন। তবুও তাদের কয়েকজন আন্দোলন করছেন ‘অবমূল্যায়নের’ অভিযোগ তুলে। এ বিষয়টি বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, তাদের উদ্দেশ্য খারাপ।


ছাত্রলীগের নতুন কমিটির তিন সদস্য বলেন, সাবেক চারজন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রায় ১৫০ জনের একটি নামের তালিকা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর হাতে দেয়।

ওই চার নেতা গত কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের মাধ্যমে তালিকাটি দেয়। সাবেক নেতাদের এই সিন্ডিকেটের দাবি ছিল, তাদের দেওয়া তালিকার সবাইকে নেতা বানানোর।

সেখানে কাকে কোন পদ দিতে হবে তাও উল্লেখ করে দেওয়া হয় তালিকায়। ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব সেই তালিকা থেকে ৬০ জনকে নেতা বানালেও তাদের পছন্দমতো পদ দেওয়া হয়নি কাউকেই।

মূলত এতেই ক্ষিপ্ত ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। আর ইন্ধনে কমিটি ঘোষণার পরপরই মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয় পদবঞ্চিতদের। যেখানে পদবঞ্চিত নেতা হিসেবে যারা আন্দোলনে রয়েছেন তাদের সবাই আগের কমিটির সভাপতি সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকিরের অনুসারী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিচিত।

ছাত্রলীগের সম্পাদক পদ পাওয়া এক সদস্য বলেন, সাবেক ওই নেতাদের হয়ে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভে শক্তি জোগাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কেন হচ্ছে তা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জিজ্ঞেস করুন।’ তিনি বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারব না।

’ এ বিষয়ে জানতে গত কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের আরেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রলীগ নিয়ে সব সময়ই ভাগাভাগির খেলা চলে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও এই ভাগাভাগিতে থাকেন। তাদের ভাগ দিতে গিয়ে অনেক সক্রিয় কর্মীকে পদ দেওয়া যায় না। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্ভুলভাবে করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

তা ছাড়া ছাত্রলীগের কমিটি হয়েছে ৩০১ সদস্যের। সক্রিয় রাজনীতি করে লাখ লাখ ছাত্র। এখান থেকে নেতা বানানোর কাজে হিমশিম খেতে হয়। ফলে কমিটি হওয়ার পরে সব সময়ই প্রতিবাদ হয়। তবে এবারের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত।

ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সম্পাদক পদে পেয়েছেন, এমন একজন বলেন, ৩০১ সদস্যের কমিটিতে গত কমিটির রয়েছে ১৩৩ জন, সাবেক নেতাদের তালিকা থেকে পদ দেওয়া হয়েছে ৬০ জনকে এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের পছন্দে পদ দেওয়া হয়েছে ৪২ জনকে। সব মিলিয়ে ২৩৫ জনকে এভাবে নিতে হয়েছে। বাকি ৬৬ জন বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পছন্দে হয়েছে। দেখা গেছে, নিজেদের বিশ্বস্তদেরই কমিটিতে রাখতে পারেননি তারা।