ঢাকা সোমবার, ২১শে অক্টোবর ২০১৯, ৭ই কার্তিক ১৪২৬


শোভন-রাব্বানীর সঙ্গে টাকার বিষয়ে কথা হয়নি, এটা বানোয়াট গল্প


১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৬:১৫

আপডেট:
১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৬:১৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের চাঁদা দাবির বিষয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাকে সম্পূর্ণ বানোয়াট গল্প বলে মন্তব্য করেছেন ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

তিনি বলেন: বহুদিন পর ভালো একটি গল্প পড়লাম। আমার আর কিছু বলার কিছু নাই। একেবারেই বানোয়াট গল্প। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনো কথা তাদের সাথে আমার হয়নি।

শনিবার তিনি বলেন: তারা (ছাত্রলীগ) তাদের মতো করে কাজ করে। কোথায় কাজ করে কী কমিশন পায়, কী পায় না পায় সেগুলো জানতে চাওয়াতে আমি তাদেরকে বলেছি, আমার সাথে টাকা পয়সা নিয়ে কোনো আলাপ তোমরা করবে না। তোমরা যেটা করতে চাও তা তোমরা নিজেদের মতো করো, তোমাদের মতো চলো। আমার সাথে এগুলো করো না। এটুকুই ছোট কথা। আর তাকে একটা গল্প বানিয়েছে।

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন: আমার বিশ্বাস দেশের প্রধান জানেন, তারা গল্প বানিয়েছে, নাকি আমি বানিয়েছি। আর তদন্ত করলে, যেকোনো ধরনের অনুসন্ধান করলে আপনারাও জানতে পারবেন যে, এ ধরনের কিছু হয়েছে কিনা। আমার আর এর বেশি কিছু বলার নেই।

গত ৮ আগস্ট ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপাচার্যের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান মহাপরিকল্পনার ৪-৬ শতাংশ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে পরবর্তীতে উপাচার্যের পক্ষ থেকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশ হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খবরে বলা হয়, উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার পেয়েছে- এমন কোম্পানির কাছ থেকে ভিসিকে টাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন শোভন ও রাব্বানী। কিন্তু ভিসি তাতে রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে দুই নেতা শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করেন।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শোভন-রাব্বানীর ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত হয়েছেন বলেও জানা যায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের পদ থেকে দুই শীর্ষ নেতাকে পদচ্যুত করতে পারেন বলেও সংবাদ প্রকাশ হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গোলাম রাব্বানী চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে বলেন: ঈদুল আযহার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন।

তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম রাব্বানীর এমন বক্তব্যকে ‘অসত্য‘ ও ‘মিথ্যা’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ থেকে পৃথক বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ বলেছে: জাবি ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেয়ার যে দাবি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী করেছেন, তা অসত্য।

এছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশেই উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।