ঢাকা রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৬


ছাত্রলীগ থেকে আসছে নতুন নেতৃত্ব, নেওয়া হচ্ছে খোঁজ!


১৬ অক্টোবর ২০১৯ ০১:৪০

আপডেট:
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১২:০৬

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোতে এবার নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলটির কয়েকজন নেতা বলেছেন, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের

আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার কাছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৫০ জন নেতার ওপর এখন ভীষণ ক্ষুব্ধ তিনি। দলের আসন্ন জাতীয় সম্মেলন ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনে তাদের পদচ্যুত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য  বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর গত জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কয়েকজন বিশ^স্ত নেতাকে শেখ হাসিনা তার আগ্রহের কথা জানান। শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে ওই নেতা আরও বলেন, আমি আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে চাই। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি দূর করে সুস্থ ধারার রাজনীতি শুরু করে আমি বিদায় নিতে চাই। তিনি বলেন, এ সম্মেলনকেই তিনি মোক্ষম সময় হিসেবে ঠিক করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দলের নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সহযোগী সংগঠনেও নতুন নেতৃত্ব তুলে আনা হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য বলেন, দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান কাজে লাগিয়ে তিনি দলের ভেতরে যে দুর্বৃত্তায়ন চর্চা হচ্ছে আগে সেটাই দূর করতে চান। এ কারণেই শুদ্ধি অভিযান দিয়ে দলের ভেতরে ঝাঁকুনি দিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দল ঢেলে সাজানো সম্ভব হবে এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা ক্ষমতা ভোগ করছেন তাদের বিদায় করবেন শেখ হাসিনা। সম্পাদকম-লীর

এক নেতা বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতার ভবিষ্যৎ রাজনীতি হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ওই নেতা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লী, সম্পাদকম-লী ও কেন্দ্রীয় সদস্য এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বসহ অন্তত ৫০ নেতার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে গেছে।

ওই দুই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগে অন্তত ২০ জন নতুন অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন। আর সব সহযোগী সংগঠনে শীর্ষ পদে নতুন নেতা আসছেন। সভাপতিম-লীর দুই সদস্য আরও বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক অর্ধশত নেতার খোঁজখবর নেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি তাদের মেধা-দক্ষতা ও রাজনৈতিক যোগ্যতাসহ নানা ব্যাপারে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বিশ্বস্ত কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও করছেন। রাজনীতিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা কতটুকু সফল ও দায়িত্ব পালনকালে কতটুকু সমালোচনামুক্ত ছিলেন এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওই দুই নেতা আরও বলেন, সর্বশেষ রিপন-রোটন কমিটি পর্যন্ত যারা সাবেক হয়েছেন তারাই আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে আসীন হবেন। সর্বস্তরে নিরেট রাজনীতিকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং নেতা বানানোর কাজ যাতে নির্বিঘ্নে করতে পারেন এ কারণে সম্মেলনের আগে দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে দলের ভেতরে একটা ঝাঁকুনি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চারজন সদস্য  বলেন, জাতীয় সম্মেলনকেন্দ্রিক কোনো তৎপরতায় যেমন নেই ওইসব নেতা তেমনি নেতা হবেন এমন আশাও আর করছেন না ওইসব নেতা। তাদের চোখেমুখে শুধুই বিষাদের ছাপ।

সম্পাদকম-লীর এক সদস্য বলেন, দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান আওয়ামী লীগের ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন নির্বিঘ্নে করে তুলবে। সম্মেলন প্রক্রিয়া থেকে প্রভাবশালী অনেক নেতা ইতিমধ্যে দূরে সরে আছেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক কৌশলেই তাদের সম্মেলনের আগে দূরে সরিয়ে রাখার এক ধরনের সিদ্ধান্তই ছিল দলীয় সভাপতির। তাই তাদের আমলনামা ধরে টান দিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ  বলেন, দলকে ঢেলে সাজানোর উপযুক্ত সময় এখন মনে করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। তাই এবার আওয়ামী লীগে যেমন পরিবর্তন আসবে তেমনি সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুন নেতারা বেশি স্থান পাবেন। যোগ্যতা অনুযায়ী কাকে কোথায় সেট করা যায় তা নিয়ে ইতিমধ্যে পর্যালোচনাও চলছে।