ঢাকা রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৬


ভোটযুদ্ধ জানুয়ারিতে

ঢাকা সিটি নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় যারা


৪ নভেম্বর ২০১৯ ০১:২৭

আপডেট:
৪ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৪৫

ঢাকার দুই সিটিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে আগামী জানুয়ারিতে। নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন জানুয়ারির মাঝামাঝি অথবা শেষদিকে একই দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরশনে ভোট করা হবে। এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ১৮ নভেম্বরের ১৮ পর যেকোনো দিন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রোববার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইভিএমএ ভোটগ্রহণ করা হবে।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই সিটিতে বিএনপির প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ঢাকার উত্তরে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম থাকলেও দক্ষিণে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীবাসীর সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর প্রায় চার বছর পর দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হন ব্যবসায়ী নেতা মো. আতিকুল ইসলাম। ৭ মার্চ শপথ নেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা গেলেও এবারও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সাঈদ খোকনের সাফল্য-ব্যর্থতার পাল্লার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার প্রয়াত পিতা ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের নাম। সাঈদ খোকন ছাড়াও দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন আরও একাধিক নেতা

 আলোচনায় রয়েছেন, সাবেক আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট  কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ও সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নুর তাপস।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম দায়িত্ব পালনের খুব কম সময় পেয়েছেন। আগামীতে তার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে। দলের প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকও।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে এমন সিদ্ধান্ত থাকায় যোগ্য প্রার্থী খুঁজছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের ব্যাপারে নতুন করে খোঁজখবর নিচ্ছে দলের হাইকমান্ড। সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তি-জনপ্রিয়তা দেখা হচ্ছে। প্রার্থী করা হলে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ভালো ও মন্দ দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিদ্বিন্দ্বতাপূর্ণ এই নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বেছে নেবে আওয়ামী লীগ। সিটি নির্বাচনে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

উত্তর সিটিতে বিএনপির আগের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে সুবজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন খোকাকে। জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ইতোমধ্যে টেলিফোনে দুই সিটিতে তাদের প্রার্থী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারসহ আসন্ন সব নির্বাচনেই অংশ নেবে বিএনপি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পরও দলের হাইকমান্ড এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘সন্ত্রাসী’ দলের তকমা মুছতে এবং গণতন্ত্রের দায়বদ্ধতা থেকেই এ সিদ্ধান্ত হয়। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই বিএনপির পাঁচ এমপি সংসদেও যোগ দেন। পরবর্তীতে বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। সেখানেও দলীয় প্রার্থী জিএম সিরাজ বিপুল ভোটে জয়ী হন। তিনিও শপথ নিয়ে সংসদে যান। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনেও বিএনপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠানো হয়। এর আগে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে প্রায় এক যুগ মেয়র ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে। ঢাকা সিটি দক্ষিণে খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী। এর আগে তিনি সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেননি। এ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, দল যদি মনোনয়ন দেয়, তাহলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা সিটি উত্তরের ভোটে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনিসুল হক বিজয়ী হন। নির্বাচিত হওয়ার আড়াই বছর পর মারা যান আনিসুল হক। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাবিথ আউয়াল অংশ নিয়েও পরে বর্জন করেন। এবারও তাবিথ আউয়াল দল চাইলে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিটি ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শুরু হয়েছিল। ওইদিন সভা সন্ধ্যায় মুলতবি করা হয়। রোববার সকালে ওই মুলতবি সভাটিই অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, ১৮ নভেম্বরের পর যেকোনো দিন এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। চলতি ভোটার তালিকা দিয়ে ইভিএমের মাধ্যমে এই দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ করা হবে। যেহেতু এখনও সময় হয়নি তাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মার্চের শেষ বা তার পরে নতুন ভোটার নিয়ে হালনাগাদ তালিকার মাধ্যমে এ সিটিতে ভোট হবে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একসঙ্গে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৪ মে, দক্ষিণ সিটিতে ১৭ মে ও চট্টগ্রাম সিটিতে প্রথম সভা হয় একই বছরের ৬ আগস্ট। সে হিসেবে ঢাকা উত্তরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে আর দক্ষিণে একই বছরের ১৬ মে। চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে। আগামী জানুয়ারিতে হালনাগাদ করা নতুন ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় নির্ধারিত রয়েছে। সেক্ষেত্রে ৩১ জানুয়ারি চ‚ড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। জানুয়ারিতে ভোট হলে নতুন ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না।

এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে, এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করবে কমিশন। সিটি নির্বাচনে কোনো আইনি জটিলতা আছে কিনা এমন প্রশ্নে ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, কোনো আইনি জটিলতা আমরা এখনও দেখছি না। ইভিএমের মাধ্যমে দুই সিটি ভোট চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ তো বটেই। তবে আমরা এ নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম।’