ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষক কাম ইউপি চেয়ারম্যানের কাণ্ড
৩ মাস স্কুলে অনুপস্থিত, বেতন মেলে ঠিকঠাক!
তিন মাস যাননি স্কুলে। ব্যস্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে। তবে প্রতি মাসের বেতন তুলছেন ঠিকঠাক। এমন অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের বাংলাগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরৎচন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে। তিনি রাতোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন স্কুলে শরৎচন্দ্রের অনুপস্থিতির বিষয়টি। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে বলেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
শরৎচন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত স্কুলে আসেননি তিনি। হাজিরা খাতাতেও এই তিন মাসে নেই তার সই। তাকে দীর্ঘদিন ক্লাসে না দেখার কথা বলেছেন শিক্ষার্থীরাও।
বাংলাগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার রায় বললেন, ‘শরৎচন্দ্র রায় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমি অসহায় অবস্থায় আছি।’
এ নিয়ে শরৎচন্দ্রের ভাষ্য, ‘আমি তিন মাস ধরে স্কুলে যাইনি, এ কথা সত্য নয়। প্রায় ১২ দিন বিদ্যালয়ে যাইনি। জুন ক্লোজিংয়ের কারণে ব্যস্ত ছিলাম। তবে বিদ্যালয়ে গেলেও আমি ক্লাস নেই না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। বেতন তুলতে হলে হাজিরা খাতায় সই থাকা উচিত। তাই আমি বিদ্যালয়ে গিয়ে সই করি।’
রাণীশংকৈল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন না করে কোনো শিক্ষকের বেতন নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রথম জানতে পেরেছি। বর্তমানে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে বেতন হওয়ায় অনেক বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় না। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
‘বিষয়টি জানা ছিল না’- দাবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগমের। অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার কথা জানালেন তিনি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: