infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩

মাকে ধর্ষণের পর হত্যা, নদীতে ফেলে দেওয়া শিশু আবিরের লাশ ৫ দিন পর উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

মাদারীপুরের শিবচরে মাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় এক বছর বয়সী শিশু আবিরকেও হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড়সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে আড়িয়াল খাঁ নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা শিবচর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সকালে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় জমির ঝোপের পাশে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোর জেলার লালপুর থানার বেরিলাবাড়ি পোস্টের আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সী ছেলে আবির ছিল।

এ ঘটনায় ২০ আগস্ট নিহত শাম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে পুলিশ ও র‌্যাব-৮, মাদারীপুরের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ফারুক মোল্লাকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে শাম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাম্পাকে হত্যার পর তার সঙ্গে থাকা শিশু আবিরকেও হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। পাঁচ দিন পর সোমবার আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মা হত্যার পর এক বছর বয়সী শিশুকেও হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


মাকে ধর্ষণের পর হত্যা, নদীতে ফেলে দেওয়া শিশু আবিরের লাশ ৫ দিন পর উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

মাদারীপুরের শিবচরে মাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় এক বছর বয়সী শিশু আবিরকেও হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড়সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে আড়িয়াল খাঁ নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা শিবচর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সকালে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় জমির ঝোপের পাশে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোর জেলার লালপুর থানার বেরিলাবাড়ি পোস্টের আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সী ছেলে আবির ছিল।

এ ঘটনায় ২০ আগস্ট নিহত শাম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে পুলিশ ও র‌্যাব-৮, মাদারীপুরের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ফারুক মোল্লাকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে শাম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাম্পাকে হত্যার পর তার সঙ্গে থাকা শিশু আবিরকেও হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। পাঁচ দিন পর সোমবার আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মা হত্যার পর এক বছর বয়সী শিশুকেও হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর