infoamaderdin@gmail.com শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

দাসত্বের চুক্তি করে ড. ইউনূস দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন: শওকত আজিজ রাসেল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ আগষ্ট ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট এবং আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেল। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিদেশিদের খুশি করতে এমন এক অসম চুক্তি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রিয় টেলিভিশন টকশো 'তৃতীয় মাত্রা' অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশের সমসাময়িক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "দাসত্বের চুক্তি করে ড. ইউনূস দেশটাকে পুরোপুরি শেষ করে, ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন!"

কর ফাঁকি ও চ্যারিটির নামে প্রহসনের সমালোচনা:
ড. ইউনূসের কর মওকুফ সুবিধার কড়া সমালোচনা করে এই শীর্ষ ব্যবসায়ী বলেন, চ্যারিটি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তিনি মূলত দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছেন। শওকত আজিজ রাসেলের মতে, আগে রাষ্ট্রের ট্যাক্স পরিশোধ করা উচিত, এরপর উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে চ্যারিটি বা মসজিদ বানানো উচিত। কিন্তু ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে 'নন-প্রফিট' দেখিয়ে সব ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন এবং আইনি মারপ্যাঁচ ব্যবহার করে পার পেয়ে গেছেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ড. ইউনূস যে ফর্মুলায় কর সুবিধা নিচ্ছেন, সেই রোডম্যাপ সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও দেওয়া হোক। তাহলে অন্যরাও নিজেদের ফ্যাক্টরিকে নন-প্রফিট ঘোষণা দিয়ে ট্যাক্স মওকুফ নিতে পারত। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীদের বেলায় তো সেটি সম্ভব হবে না।

সার্বভৌমত্ব বিক্রি ও দাসত্বের চুক্তি:
শওকত আজিজ রাসেল অভিযোগ করেন, দেশের নাগরিকদের এবং ব্যবসায়ীদের অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি করে আমেরিকার সঙ্গে এমন একটি অসম চুক্তি করা হয়েছে, যা একটি স্বাধীন দেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বিদায় নেওয়ার আগে অফিস খুলে তড়িঘড়ি করে এমন চুক্তি করার মধ্যেই অসৎ উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই চুক্তির ফলে বিদেশিদের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ এখন কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

তিনি বলেন, এখন আমাদের এক চুল নড়তে গেলেও ওদের পারমিশন লাগে। ওরা যদি বলে যে আমরা অমুক জায়গা থেকে তেল বা ক্যাবল কিনতে পারব না, তাহলে আমরা তা পারব না। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি দাসত্বের চুক্তি, যার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মেগা প্রকল্প:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, রাশিয়া থেকে করা ১২ বিলিয়ন ডলারের ওই প্রকল্পে মূল প্ল্যান্টের বাইরে শুধু অবকাঠামো নির্মাণেই ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের থাকার জায়গা সরকার আগেই বানিয়ে রেখেছে। যেহেতু অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেছে, তাই পরবর্তীতে একই মাপের প্রকল্প অর্ধেকের চেয়েও কম খরচে করা সম্ভব হতো।

কিন্তু নতুন এই চুক্তির গ্যাঁড়াকলে পড়ে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সাথে এমন প্রকল্প করা যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। এটি করতে না পারলে তা বিশাল জাতীয় ক্ষতি হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

পরিশেষে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ড. ইউনূস হয়তো ভালো মানুষ বা শ্রদ্ধেয়ভাজন হতে পারেন, কিন্তু তিনি রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা ষোলোআনা ভোগ করে শেষ পর্যন্ত জাতির সাথে বেইমানি করেছেন। বিদেশি প্রভুদের খুশি করার এই চুক্তির মধ্য দিয়ে তিনি দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


দাসত্বের চুক্তি করে ড. ইউনূস দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন: শওকত আজিজ রাসেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ আগষ্ট ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট এবং আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেল। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিদেশিদের খুশি করতে এমন এক অসম চুক্তি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রিয় টেলিভিশন টকশো 'তৃতীয় মাত্রা' অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশের সমসাময়িক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "দাসত্বের চুক্তি করে ড. ইউনূস দেশটাকে পুরোপুরি শেষ করে, ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন!"

কর ফাঁকি ও চ্যারিটির নামে প্রহসনের সমালোচনা:
ড. ইউনূসের কর মওকুফ সুবিধার কড়া সমালোচনা করে এই শীর্ষ ব্যবসায়ী বলেন, চ্যারিটি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তিনি মূলত দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছেন। শওকত আজিজ রাসেলের মতে, আগে রাষ্ট্রের ট্যাক্স পরিশোধ করা উচিত, এরপর উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে চ্যারিটি বা মসজিদ বানানো উচিত। কিন্তু ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে 'নন-প্রফিট' দেখিয়ে সব ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন এবং আইনি মারপ্যাঁচ ব্যবহার করে পার পেয়ে গেছেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ড. ইউনূস যে ফর্মুলায় কর সুবিধা নিচ্ছেন, সেই রোডম্যাপ সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও দেওয়া হোক। তাহলে অন্যরাও নিজেদের ফ্যাক্টরিকে নন-প্রফিট ঘোষণা দিয়ে ট্যাক্স মওকুফ নিতে পারত। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীদের বেলায় তো সেটি সম্ভব হবে না।

সার্বভৌমত্ব বিক্রি ও দাসত্বের চুক্তি:
শওকত আজিজ রাসেল অভিযোগ করেন, দেশের নাগরিকদের এবং ব্যবসায়ীদের অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি করে আমেরিকার সঙ্গে এমন একটি অসম চুক্তি করা হয়েছে, যা একটি স্বাধীন দেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বিদায় নেওয়ার আগে অফিস খুলে তড়িঘড়ি করে এমন চুক্তি করার মধ্যেই অসৎ উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই চুক্তির ফলে বিদেশিদের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ এখন কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

তিনি বলেন, এখন আমাদের এক চুল নড়তে গেলেও ওদের পারমিশন লাগে। ওরা যদি বলে যে আমরা অমুক জায়গা থেকে তেল বা ক্যাবল কিনতে পারব না, তাহলে আমরা তা পারব না। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি দাসত্বের চুক্তি, যার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মেগা প্রকল্প:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, রাশিয়া থেকে করা ১২ বিলিয়ন ডলারের ওই প্রকল্পে মূল প্ল্যান্টের বাইরে শুধু অবকাঠামো নির্মাণেই ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের থাকার জায়গা সরকার আগেই বানিয়ে রেখেছে। যেহেতু অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেছে, তাই পরবর্তীতে একই মাপের প্রকল্প অর্ধেকের চেয়েও কম খরচে করা সম্ভব হতো।

কিন্তু নতুন এই চুক্তির গ্যাঁড়াকলে পড়ে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সাথে এমন প্রকল্প করা যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। এটি করতে না পারলে তা বিশাল জাতীয় ক্ষতি হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

পরিশেষে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ড. ইউনূস হয়তো ভালো মানুষ বা শ্রদ্ধেয়ভাজন হতে পারেন, কিন্তু তিনি রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা ষোলোআনা ভোগ করে শেষ পর্যন্ত জাতির সাথে বেইমানি করেছেন। বিদেশি প্রভুদের খুশি করার এই চুক্তির মধ্য দিয়ে তিনি দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর