infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ইউএস-বাংলা ও বাংলাদেশ বিমানের লাগামহীন ভাড়া, ফ্লাইটের কৃত্রিম সংকটে নাজেহাল যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

ঢাকা-রাজশাহী রুটে ফ্লাইট সংকট ও টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। নভোএয়ার এই রুট থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপরই মূলত নির্ভর করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

আর প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার সুযোগে টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে আকাশপথে চলাচল অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় একদিকে তৈরি হয়েছে টিকিটের সংকট, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকিটের দাম প্রায় ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। ফলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি রোগী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকরাও পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একসময় ঢাকা-রাজশাহী রুটে ইকোনমি শ্রেণির সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। অন্যান্য ক্যাটাগরির ভাড়া ছিল ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ইকোনমি শ্রেণির সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ হাজার ৭৪৯ টাকা, ইকোনমি সেভার ৬ হাজার ৫৪৯ টাকা, ইকোনমি ভ্যালু ৮ হাজার ৭৪৯ টাকা এবং ইকোনমি ফ্লেক্স ১১ হাজার ৫৪৯ টাকা পর্যন্ত।

শেষ মুহূর্তে বা ব্যস্ত সময়ে টিকিটের দাম আরও বেড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায় বলে যাত্রীদের অভিযোগ। ফলে এখন বিমানবন্দরে গিয়ে হঠাৎ টিকিট পাওয়ার সুযোগও প্রায় নেই। যাত্রা নিশ্চিত করতে অনেককে অন্তত এক সপ্তাহ আগে টিকিট বুকিং করতে হচ্ছে।

বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা-রাজশাহী রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকা থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিট ও বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইট ছেড়ে যায়। রাজশাহী থেকে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিট ও সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে মাত্র তিন দিন এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সোমবার ও বুধবার ঢাকা থেকে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায়। ফিরতি ফ্লাইট রাজশাহী থেকে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়ে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। শনিবার ঢাকা থেকে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায় এবং ফিরতি পথে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।

নিয়মিত যাত্রীদের ভাষ্য, ঢাকা-রাজশাহী রুটে যাত্রীর কোনো সংকট নেই। চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই রুটে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা কম থাকায় টিকিটের চাহিদা বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে ভাড়ায়।

ঢাকা-রাজশাহী রুটের নিয়মিত বিমানযাত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজশাহীতে যাত্রীর অভাব নেই। সকালে তিনটি এবং দুপুর ও বিকেলে আরও তিনটি করে মোট ছয়টি ফ্লাইট দিলেও প্রতিটির আসন পূর্ণ থাকবে। অথচ সিট সংকটের কারণে বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট ও প্রতিযোগিতা থাকায় অনেক সময় ৪ হাজার ৩০০ টাকাতেও টিকিট পাওয়া যায়। কিন্তু রাজশাহী রুটে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়ার চাপের মধ্যে পড়ছেন।

আকাশপথের এই সংকটের প্রভাব পড়ছে রাজশাহীর পর্যটন ও চিকিৎসা খাতেও। রাজশাহী শহর, পুঠিয়া রাজবাড়ি ও বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটনকেন্দ্রে অল্প সময়ে যেতে আগ্রহী পর্যটক ও বিদেশি গবেষকদের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

একইভাবে গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার প্রয়োজন হলেও বিমানের টিকিটের উচ্চমূল্য ও সীমিত আসনের কারণে অনেক পরিবারকে সড়ক ও রেলপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ছে।

নিয়মিত যাত্রী ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, আগের তুলনায় বিমানভাড়া অনেক বেড়েছে। একসময় প্রায় ৩ হাজার টাকায় যাতায়াত করা গেলেও এখন সেই ভাড়া বেড়ে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে এক সপ্তাহ আগেই টিকিট কাটতে হচ্ছে।

শাহ মখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহীর বন্দর ব্যবস্থাপক মোছা. দিলারা পারভীন বলেন, নভোএয়ার নিজেদের ফ্লাইট গুটিয়ে নেওয়ার পর এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমেছে। ফলে যাত্রীদের চাপ ও টিকিটের চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। তবে টিকিটের দাম নির্ধারণের বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে নেই।

ভোগান্তি কমাতে নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো নতুন এয়ারলাইন্স এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইলে অনুমোদনের বিষয়টি দেখা যেতে পারে। তবে নতুন কোনো বিমান কোম্পানিকে যুক্ত করার বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-রাজশাহী রুটে যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ ও শেষ মুহূর্তের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভাড়া কমার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও বাড়তে পারে।

তাদের মতে, রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকার দ্রুত ও সাশ্রয়ী আকাশ যোগাযোগ শুধু যাত্রীদের ভোগান্তি কমাবে না, বরং চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ইউএস-বাংলা ও বাংলাদেশ বিমানের লাগামহীন ভাড়া, ফ্লাইটের কৃত্রিম সংকটে নাজেহাল যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

ঢাকা-রাজশাহী রুটে ফ্লাইট সংকট ও টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। নভোএয়ার এই রুট থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপরই মূলত নির্ভর করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

আর প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার সুযোগে টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে আকাশপথে চলাচল অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় একদিকে তৈরি হয়েছে টিকিটের সংকট, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকিটের দাম প্রায় ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। ফলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি রোগী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকরাও পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একসময় ঢাকা-রাজশাহী রুটে ইকোনমি শ্রেণির সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। অন্যান্য ক্যাটাগরির ভাড়া ছিল ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ইকোনমি শ্রেণির সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ হাজার ৭৪৯ টাকা, ইকোনমি সেভার ৬ হাজার ৫৪৯ টাকা, ইকোনমি ভ্যালু ৮ হাজার ৭৪৯ টাকা এবং ইকোনমি ফ্লেক্স ১১ হাজার ৫৪৯ টাকা পর্যন্ত।

শেষ মুহূর্তে বা ব্যস্ত সময়ে টিকিটের দাম আরও বেড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায় বলে যাত্রীদের অভিযোগ। ফলে এখন বিমানবন্দরে গিয়ে হঠাৎ টিকিট পাওয়ার সুযোগও প্রায় নেই। যাত্রা নিশ্চিত করতে অনেককে অন্তত এক সপ্তাহ আগে টিকিট বুকিং করতে হচ্ছে।

বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা-রাজশাহী রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকা থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিট ও বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইট ছেড়ে যায়। রাজশাহী থেকে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিট ও সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে মাত্র তিন দিন এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সোমবার ও বুধবার ঢাকা থেকে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায়। ফিরতি ফ্লাইট রাজশাহী থেকে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়ে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। শনিবার ঢাকা থেকে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায় এবং ফিরতি পথে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।

নিয়মিত যাত্রীদের ভাষ্য, ঢাকা-রাজশাহী রুটে যাত্রীর কোনো সংকট নেই। চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই রুটে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা কম থাকায় টিকিটের চাহিদা বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে ভাড়ায়।

ঢাকা-রাজশাহী রুটের নিয়মিত বিমানযাত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজশাহীতে যাত্রীর অভাব নেই। সকালে তিনটি এবং দুপুর ও বিকেলে আরও তিনটি করে মোট ছয়টি ফ্লাইট দিলেও প্রতিটির আসন পূর্ণ থাকবে। অথচ সিট সংকটের কারণে বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট ও প্রতিযোগিতা থাকায় অনেক সময় ৪ হাজার ৩০০ টাকাতেও টিকিট পাওয়া যায়। কিন্তু রাজশাহী রুটে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়ার চাপের মধ্যে পড়ছেন।

আকাশপথের এই সংকটের প্রভাব পড়ছে রাজশাহীর পর্যটন ও চিকিৎসা খাতেও। রাজশাহী শহর, পুঠিয়া রাজবাড়ি ও বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটনকেন্দ্রে অল্প সময়ে যেতে আগ্রহী পর্যটক ও বিদেশি গবেষকদের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

একইভাবে গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার প্রয়োজন হলেও বিমানের টিকিটের উচ্চমূল্য ও সীমিত আসনের কারণে অনেক পরিবারকে সড়ক ও রেলপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ছে।

নিয়মিত যাত্রী ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, আগের তুলনায় বিমানভাড়া অনেক বেড়েছে। একসময় প্রায় ৩ হাজার টাকায় যাতায়াত করা গেলেও এখন সেই ভাড়া বেড়ে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে এক সপ্তাহ আগেই টিকিট কাটতে হচ্ছে।

শাহ মখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহীর বন্দর ব্যবস্থাপক মোছা. দিলারা পারভীন বলেন, নভোএয়ার নিজেদের ফ্লাইট গুটিয়ে নেওয়ার পর এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমেছে। ফলে যাত্রীদের চাপ ও টিকিটের চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। তবে টিকিটের দাম নির্ধারণের বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে নেই।

ভোগান্তি কমাতে নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো নতুন এয়ারলাইন্স এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইলে অনুমোদনের বিষয়টি দেখা যেতে পারে। তবে নতুন কোনো বিমান কোম্পানিকে যুক্ত করার বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-রাজশাহী রুটে যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ ও শেষ মুহূর্তের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভাড়া কমার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও বাড়তে পারে।

তাদের মতে, রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকার দ্রুত ও সাশ্রয়ী আকাশ যোগাযোগ শুধু যাত্রীদের ভোগান্তি কমাবে না, বরং চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর