infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

সম্পর্কের টানাপোড়েনে মিমি হত্যা, গ্রেপ্তার যুবকের স্বীকারোক্তি

মোঃ খোরশেদ আলম প্রকাশিত: ২৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট এলাকায় আলোচিত ইশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপোড়েন, অর্থ লেনদেন ও পারস্পরিক বিরোধের জটিল এক কাহিনি, যার পরিণতিতে ঘটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত কাউসার আহমেদ খান আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে একটি দোকানে কেনাকাটার সূত্র ধরে ইশরাত জাহান মিমির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তদন্তকারীরা জানান, সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুইজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় মিমির গলা চেপে ধরলে তিনি মারা যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন অভিযুক্ত।

গত ২৩ আগস্ট সকালে পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট সংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলার কক্ষ থেকে ইশরাত জাহান মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত কাউসার আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২৪ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসলেও মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


সম্পর্কের টানাপোড়েনে মিমি হত্যা, গ্রেপ্তার যুবকের স্বীকারোক্তি

মোঃ খোরশেদ আলম

প্রকাশিত: ২৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট এলাকায় আলোচিত ইশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপোড়েন, অর্থ লেনদেন ও পারস্পরিক বিরোধের জটিল এক কাহিনি, যার পরিণতিতে ঘটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত কাউসার আহমেদ খান আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে একটি দোকানে কেনাকাটার সূত্র ধরে ইশরাত জাহান মিমির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তদন্তকারীরা জানান, সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুইজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় মিমির গলা চেপে ধরলে তিনি মারা যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন অভিযুক্ত।

গত ২৩ আগস্ট সকালে পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট সংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলার কক্ষ থেকে ইশরাত জাহান মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত কাউসার আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২৪ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসলেও মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর