infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

রংপুরে ১০ দিনে ৮ খুন, আতঙ্কে নগরবাসী; পুলিশের দাবি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

রংপুর নগরী ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ১০ দিনে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়লেও পুলিশের দাবি, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব জড়িত এবং সব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য হত্যার তদন্তে পুলিশের দেওয়া ঘটনার সময়রেখা, বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য এবং ফরেনসিক আলামত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অসঙ্গতির কারণে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য হত্যা

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুরের মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, ওই দুই যুবক রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিল। বিষয়টি গণপতি দেখে ফেলায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে অভিযুক্তরা গণপতিসহ পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

তবে পরবর্তী সময়ে পুলিশের বক্তব্যে পরিবর্তন আসে। এতে ঘটনার সময় ও কীভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

হত্যার সময় নিয়ে প্রশ্ন

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি তার বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন। পরদিন রাত ২টা ৪০ মিনিটে প্রীতিলতার মোবাইল নম্বর থেকে তার কাছে একটি ফোনকল আসে। তবে তিনি ওই কলটি ধরতে পারেননি।

এদিকে পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণের সঙ্গে ওই ফোনকলের সময়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ পুলিশের একাধিক বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের সময় নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মো. আবদুল মাবুদও দুটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সময় সম্পর্কে ভিন্ন বর্ণনা দেন। প্রথমবার তিনি রাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কথা বললেও পরবর্তী বক্তব্যে জানান, ভোরে গণপতি অভিযুক্তদের দেখতে পান। ফলে তদন্তে ঘটনাটির সঠিক সময় নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফরেনসিক আলামত নিয়েও প্রশ্ন

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক প্রমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, পুলিশ যে দড়ি বা কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধের কথা বলেছে, ময়নাতদন্তের সময় তিনি এমন কোনো আলামত পাননি।

এ ছাড়া মর্গের সহকারী জতন কুমার দাবি করেন, নিহত মা ও মেয়ের শরীর থেকে বীর্যের মতো কিছু বের হতে দেখেছিলেন। তবে পরবর্তী পরীক্ষায় ওই নমুনার ফল নেতিবাচক আসে।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাড়িতে গোসল করে, খাবার খায় এবং ঘর তছনছ করে। তবে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা এ ঘটনায় ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত পরীক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা যদি হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতে অবস্থান করে থাকে, তাহলে বাথরুম, দরজা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, চুল বা ত্বকের কোষ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

১০ দিনে আরও চার হত্যাকাণ্ড

শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য হত্যার আগে ও পরে রংপুর নগরী ও আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গত ১০ আগস্ট হারাগাছের আরাজি বীরচলন এলাকায় হামলার শিকার হন পলাশ নামে এক যুবক। পরে ২০ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৩ আগস্ট নগরীর তাজহাট আনসারি মোড় এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরপর ২৩ আগস্ট হারাগাছ থানা এলাকায় আবু সিদ্দিক নামে এক যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। সবশেষ গঙ্গাচড়ায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরপর এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

নগরবাসীর মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক

রংপুরের বাসিন্দা আব্দুল হাই প্রধান বলেন, রংপুর একসময় শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর বাইরে থাকলে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে আছেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের রংপুর জেলা সভাপতি আইনজীবী জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা কঠিন হবে।

পুলিশের দাবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

তবে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী দাবি করেছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক হত্যাকাণ্ড, বিশেষ করে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যার তদন্তে ওঠা নানা প্রশ্নের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত চান স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


রংপুরে ১০ দিনে ৮ খুন, আতঙ্কে নগরবাসী; পুলিশের দাবি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

রংপুর নগরী ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ১০ দিনে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়লেও পুলিশের দাবি, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব জড়িত এবং সব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য হত্যার তদন্তে পুলিশের দেওয়া ঘটনার সময়রেখা, বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য এবং ফরেনসিক আলামত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অসঙ্গতির কারণে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য হত্যা

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুরের মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, ওই দুই যুবক রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিল। বিষয়টি গণপতি দেখে ফেলায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে অভিযুক্তরা গণপতিসহ পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

তবে পরবর্তী সময়ে পুলিশের বক্তব্যে পরিবর্তন আসে। এতে ঘটনার সময় ও কীভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

হত্যার সময় নিয়ে প্রশ্ন

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি তার বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন। পরদিন রাত ২টা ৪০ মিনিটে প্রীতিলতার মোবাইল নম্বর থেকে তার কাছে একটি ফোনকল আসে। তবে তিনি ওই কলটি ধরতে পারেননি।

এদিকে পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণের সঙ্গে ওই ফোনকলের সময়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ পুলিশের একাধিক বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের সময় নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মো. আবদুল মাবুদও দুটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সময় সম্পর্কে ভিন্ন বর্ণনা দেন। প্রথমবার তিনি রাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কথা বললেও পরবর্তী বক্তব্যে জানান, ভোরে গণপতি অভিযুক্তদের দেখতে পান। ফলে তদন্তে ঘটনাটির সঠিক সময় নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফরেনসিক আলামত নিয়েও প্রশ্ন

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক প্রমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, পুলিশ যে দড়ি বা কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধের কথা বলেছে, ময়নাতদন্তের সময় তিনি এমন কোনো আলামত পাননি।

এ ছাড়া মর্গের সহকারী জতন কুমার দাবি করেন, নিহত মা ও মেয়ের শরীর থেকে বীর্যের মতো কিছু বের হতে দেখেছিলেন। তবে পরবর্তী পরীক্ষায় ওই নমুনার ফল নেতিবাচক আসে।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাড়িতে গোসল করে, খাবার খায় এবং ঘর তছনছ করে। তবে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা এ ঘটনায় ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত পরীক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা যদি হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতে অবস্থান করে থাকে, তাহলে বাথরুম, দরজা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, চুল বা ত্বকের কোষ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

১০ দিনে আরও চার হত্যাকাণ্ড

শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য হত্যার আগে ও পরে রংপুর নগরী ও আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গত ১০ আগস্ট হারাগাছের আরাজি বীরচলন এলাকায় হামলার শিকার হন পলাশ নামে এক যুবক। পরে ২০ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৩ আগস্ট নগরীর তাজহাট আনসারি মোড় এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরপর ২৩ আগস্ট হারাগাছ থানা এলাকায় আবু সিদ্দিক নামে এক যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। সবশেষ গঙ্গাচড়ায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরপর এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

নগরবাসীর মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক

রংপুরের বাসিন্দা আব্দুল হাই প্রধান বলেন, রংপুর একসময় শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর বাইরে থাকলে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে আছেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের রংপুর জেলা সভাপতি আইনজীবী জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা কঠিন হবে।

পুলিশের দাবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

তবে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী দাবি করেছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক হত্যাকাণ্ড, বিশেষ করে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যার তদন্তে ওঠা নানা প্রশ্নের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত চান স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর