infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক: দেশসেরা ইউএনও ফারজানা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এ ‘বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক ইউএনও এবং বর্তমানে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে এ সম্মাননা পদক তুলে দেন।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ফারজানা রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখেন তিনি। তাঁর এসব প্রশংসনীয় উদ্যোগই তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের এই শ্রেষ্ঠত্বের আসনে নিয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ের ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ফারজানা রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসেন। তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে ও ঝরে পড়া রোধে চালু করা হয় ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) কর্মসূচি।

পাশাপাশি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করতে ১৫টি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ-পরবর্তী অনুশীলনের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপও বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য চালু করা হয় ‘বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।

বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে রোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, ভূমিসেবা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা, সেমিনার এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষায় উৎসাহিত করা হয়।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে শতভাগ স্কুল ইউনিফর্ম নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডাস্টবিন সরবরাহ, শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুলের বাগান তৈরি, ফলদ গাছ রোপণ এবং মনোরম শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

অভিভাবকদের সুবিধার্থে বিদ্যালয়ে ‘অভিভাবক ছায়াতল’ নির্মাণ, নিয়মিত ক্লাস্টারভিত্তিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধান, মাঠ ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, গাইড ওয়াল ও প্যালাসাইডিং স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও তাঁর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়। এ ছাড়া শিশুদের খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য জার্সি প্রদান করা হয়।

পদক পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ফারজানা রহমান বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। সোনারগাঁয়ের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সবার সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে। এই সম্মাননা কাজের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল। ভবিষ্যতে দেশের মানুষের কল্যাণে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”

উল্লেখ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই জাতীয় পদক প্রদান করে থাকে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক: দেশসেরা ইউএনও ফারজানা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এ ‘বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক ইউএনও এবং বর্তমানে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে এ সম্মাননা পদক তুলে দেন।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ফারজানা রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখেন তিনি। তাঁর এসব প্রশংসনীয় উদ্যোগই তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের এই শ্রেষ্ঠত্বের আসনে নিয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ের ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ফারজানা রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসেন। তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে ও ঝরে পড়া রোধে চালু করা হয় ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) কর্মসূচি।

পাশাপাশি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করতে ১৫টি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ-পরবর্তী অনুশীলনের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপও বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য চালু করা হয় ‘বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।

বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে রোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, ভূমিসেবা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা, সেমিনার এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষায় উৎসাহিত করা হয়।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে শতভাগ স্কুল ইউনিফর্ম নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডাস্টবিন সরবরাহ, শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুলের বাগান তৈরি, ফলদ গাছ রোপণ এবং মনোরম শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

অভিভাবকদের সুবিধার্থে বিদ্যালয়ে ‘অভিভাবক ছায়াতল’ নির্মাণ, নিয়মিত ক্লাস্টারভিত্তিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধান, মাঠ ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, গাইড ওয়াল ও প্যালাসাইডিং স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও তাঁর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়। এ ছাড়া শিশুদের খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য জার্সি প্রদান করা হয়।

পদক পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ফারজানা রহমান বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। সোনারগাঁয়ের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সবার সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে। এই সম্মাননা কাজের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল। ভবিষ্যতে দেশের মানুষের কল্যাণে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”

উল্লেখ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই জাতীয় পদক প্রদান করে থাকে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর