উখিয়ায় পাহাড়ধস: নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪
টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই কন্যা শিশু।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
এর আগে ঘটনার পর তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস ও ক্যাম্প প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় চলা উদ্ধার অভিযানে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতরদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছে —রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। নিহতদের মধ্যে উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা দুই বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুইজন ক্যাম্প-৫–এর বাসিন্দা। নিহত অপর চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প প্রশাসন।
হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস এবং ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ও দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন বলছে, ওই মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। অধিকাংশ বেরিয়ে গেলেও মাদরাসার পাহাড় লাগোয়া কক্ষে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি এসে পড়লে ওই কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে এবং যাদের অধিকাংশই মারা গেছেন।
ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার সময় বাকি ছিল আর কয়েক মিনিট, এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
এর গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী শিশুসহ প্রাণ হারান ৮ জন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গত তিন দিনে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণের ফলে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: