তালাবদ্ধ ঘরে ৩ লাশের পরিচয় শনাক্ত, বাড়ি দিনাজপুর
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি ভাড়াবাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার নবজাতকসহ স্বামী-স্ত্রীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত নাজমা আক্তারের বড় বোন শাপলা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন– দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী বড় মাগুড়া পাকপাড়ার নাজমা আক্তার (৩৩) ও তাঁদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক। আলমগীর হকারি করে সাভারে পান-সিগারেট বিক্রি করতেন।
২০২২ সালে আলমগীর ও নাজমা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নাজমার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁরা আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
এর আগে, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে মধ্য জামগড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, গত ৯ আগস্ট স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়। দ্বিতীয় তলার ওই কক্ষের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার কক্ষটি থেকে উৎকট দুর্গন্ধ আসায় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজার তালা ভেঙে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।
ভবনের একাধিক ভাড়াটিয়া জানান, কয়েকদিন ধরে দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে পঁচা গন্ধ পাচ্ছিলেন তারা। প্রথমে ময়লার দুর্গন্ধ ভেবেছিলেন। শুক্রবার গন্ধের তীব্রতা বাড়লে তালা ভেঙে কক্ষের ভেতরে খাটে নারী-পুরুষের লাশ পান। পাশে মৃত ভ্রূণ পেয়ে আশুলিয়া থানাকে জানান।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘শাপলা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে বোন ও তাঁর স্বামীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। আলমগীরের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’
শাপলা আক্তার বলেন, ‘আমি বাড়ির ফোন পেয়ে অফিস থেকে এখানে এসেছি। আমি তো ভাবছি, অন্তঃসত্ত্বা। কিছু সমস্যা হতেই পারে। এটিই ভাবছি আর কী? আমার বোন তো সাভারে নতুন। স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই তারা মারছে। এমন মার মারছে, পেট থেকে বাচ্চা বাইর হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘নাজমার সঙ্গে আমার অফিসে বৃহস্পতিবার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল, কথা হয়নি। আশুলিয়ায় দুই মাস আইছে। আমার বোন চাকরি করে। বোন জামাই পানের ব্যবসা করত। দুজনকেই মাইরা ফেলাইছে, আমি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: