infoamaderdin@gmail.com রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২২ ভাদ্র ১৪৩৩

জামালপুরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের কাণ্ড

মিটারে সংযোগ ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল, বিস্মিত গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০৯ পিএম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার এক বাসিন্দার নামে মিটার স্থাপন বা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই ৬৯২ টাকার একটি বিদ্যুৎ বিল আসার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নিজে, পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিলিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়, ভুক্তভোগীর নাম শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার।

জানা গেছে, নিমাই চন্দ্র সরকারের বাসায় ইতিমধ্যে দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। এর বাইরে আরেকটি নতুন মিটার সংযোগের জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন এবং সেজন্য একটি ওয়্যারিং বোর্ডও প্রস্তুত করা হয়। তবে মিটার স্থাপন বা সংযোগ কার্যকর হওয়ার আগেই তাঁর নামে মোট পাঁচটি বিলের কাগজ আসে, যার মধ্যে নতুন মিটারের নামে আগস্ট মাসের বিল হিসেবে ৬৯২ টাকা উল্লেখ ছিল। বিদ্যুৎ ব্যবহারই শুরু না হতেই কীভাবে এই বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ নিয়ে বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সংযোগই যেখানে দেওয়া হয়নি, সেখানে ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল কীভাবে প্রস্তুত হতে পারে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান প্রাথমিকভাবে বলেন, গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেই বিল তৈরি করা হয়েছে। তবে মিটার বা সংযোগ ছাড়া বিল করা যায় কি না—এই প্রশ্নের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে এটি একটি ভুল হয়েছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে মিটার বা সংযোগহীন অবস্থায় বিল তৈরির বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। তাঁর ভাষ্যমতে, ঝড়ে গ্রাহকের পুরোনো মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি মিটার পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিং স্থাপনের কথা জানানো হলেও তিনি তা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করেননি। আর্থিং স্থাপন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই একটি বিল তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, অফিসের পুরোনো সার্ভার সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে বিলটি এমনভাবে প্রদর্শিত হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি, যদিও মিটার বা সংযোগ ছাড়া বিল তৈরি হওয়ার বিষয়টিকে তিনি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে স্বীকার করেন।

এছাড়া তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার শ্রেণি পরিবর্তনেরও একটি প্রক্রিয়া চলমান ছিল—সম্ভবত বাণিজ্যিক থেকে আবাসিক মিটারে রূপান্তরের আবেদন করেছিলেন তিনি। নতুন সফটওয়্যার ব্যবস্থায় এই ধরনের পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হিসেবে প্রদর্শিত হয় এবং সেক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যায় বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


জামালপুরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের কাণ্ড

মিটারে সংযোগ ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল, বিস্মিত গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০৯ পিএম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার এক বাসিন্দার নামে মিটার স্থাপন বা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই ৬৯২ টাকার একটি বিদ্যুৎ বিল আসার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নিজে, পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিলিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়, ভুক্তভোগীর নাম শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার।

জানা গেছে, নিমাই চন্দ্র সরকারের বাসায় ইতিমধ্যে দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। এর বাইরে আরেকটি নতুন মিটার সংযোগের জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন এবং সেজন্য একটি ওয়্যারিং বোর্ডও প্রস্তুত করা হয়। তবে মিটার স্থাপন বা সংযোগ কার্যকর হওয়ার আগেই তাঁর নামে মোট পাঁচটি বিলের কাগজ আসে, যার মধ্যে নতুন মিটারের নামে আগস্ট মাসের বিল হিসেবে ৬৯২ টাকা উল্লেখ ছিল। বিদ্যুৎ ব্যবহারই শুরু না হতেই কীভাবে এই বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ নিয়ে বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সংযোগই যেখানে দেওয়া হয়নি, সেখানে ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল কীভাবে প্রস্তুত হতে পারে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান প্রাথমিকভাবে বলেন, গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেই বিল তৈরি করা হয়েছে। তবে মিটার বা সংযোগ ছাড়া বিল করা যায় কি না—এই প্রশ্নের মুখে তিনি স্বীকার করেন যে এটি একটি ভুল হয়েছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে মিটার বা সংযোগহীন অবস্থায় বিল তৈরির বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। তাঁর ভাষ্যমতে, ঝড়ে গ্রাহকের পুরোনো মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি মিটার পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিং স্থাপনের কথা জানানো হলেও তিনি তা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করেননি। আর্থিং স্থাপন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই একটি বিল তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, অফিসের পুরোনো সার্ভার সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে বিলটি এমনভাবে প্রদর্শিত হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি, যদিও মিটার বা সংযোগ ছাড়া বিল তৈরি হওয়ার বিষয়টিকে তিনি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে স্বীকার করেন।

এছাড়া তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার শ্রেণি পরিবর্তনেরও একটি প্রক্রিয়া চলমান ছিল—সম্ভবত বাণিজ্যিক থেকে আবাসিক মিটারে রূপান্তরের আবেদন করেছিলেন তিনি। নতুন সফটওয়্যার ব্যবস্থায় এই ধরনের পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হিসেবে প্রদর্শিত হয় এবং সেক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যায় বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর