infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩

৬ মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, বেকার ৬২ হাজার শ্রমিক: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম

নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই অবনতি হয়েছে। একই সময়ে দেশের প্রধান তিন শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে।

এতে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষের বড় প্রত্যাশা ছিল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। তবে সরকারের প্রথম ছয় মাসের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অর্থনীতিতে স্বস্তির চেয়ে উদ্বেগের জায়গাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি কী অবস্থায় ছিল, তার কোনো সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক নথি এখনো তৈরি হয়নি। ফলে সরকারের বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রকাশিত পরিসংখ্যানের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সিপিডি জানিয়েছে, সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপ মূল্যায়নে তারা প্রায় ৩৬২টি উদ্যোগকে নয়টি ভাগে নিয়ে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর আওতায় পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সুশাসনের ১০৫টি ঘটনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫ কারখানা বন্ধ

সিপিডির পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানা বন্ধ হয়ে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক।

শিল্প খাতে গ্যাস সংকটও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, কাচ ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে গ্যাসের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিপিডি।

সংস্থাটির হিসাবে, শিল্প খাতে গ্যাসের ব্যবহার ১ হাজার ১৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ১ হাজার ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

৩১ সূচকের ১৯টিতেই অবনতি

সিপিডির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টি সূচকে উন্নতি হয়েছে। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মাথাপিছু ঋণসহ ১৯টি সূচকে অবনতি অথবা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে।

তবে মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তির চিত্র পাওয়া গেছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে।

মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হলেও প্রকৃত মজুরি এখনো নেতিবাচক রয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিডি। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মানুষের আয় বৃদ্ধির গতি এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিপিডি।

তবে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ই-রিটার্নের পরিধি সম্প্রসারণ, রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বাড়ানো, স্টার্টআপ তহবিল এবং কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

সিপিডির মতে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদনের দুর্বলতা কাটাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে টেকসই পুনরুদ্ধারের পথে নেওয়া কঠিন হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


৬ মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, বেকার ৬২ হাজার শ্রমিক: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম

নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই অবনতি হয়েছে। একই সময়ে দেশের প্রধান তিন শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে।

এতে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষের বড় প্রত্যাশা ছিল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। তবে সরকারের প্রথম ছয় মাসের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অর্থনীতিতে স্বস্তির চেয়ে উদ্বেগের জায়গাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি কী অবস্থায় ছিল, তার কোনো সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক নথি এখনো তৈরি হয়নি। ফলে সরকারের বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রকাশিত পরিসংখ্যানের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সিপিডি জানিয়েছে, সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপ মূল্যায়নে তারা প্রায় ৩৬২টি উদ্যোগকে নয়টি ভাগে নিয়ে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর আওতায় পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সুশাসনের ১০৫টি ঘটনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫ কারখানা বন্ধ

সিপিডির পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানা বন্ধ হয়ে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক।

শিল্প খাতে গ্যাস সংকটও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, কাচ ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে গ্যাসের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিপিডি।

সংস্থাটির হিসাবে, শিল্প খাতে গ্যাসের ব্যবহার ১ হাজার ১৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ১ হাজার ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

৩১ সূচকের ১৯টিতেই অবনতি

সিপিডির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টি সূচকে উন্নতি হয়েছে। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মাথাপিছু ঋণসহ ১৯টি সূচকে অবনতি অথবা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে।

তবে মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তির চিত্র পাওয়া গেছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে।

মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হলেও প্রকৃত মজুরি এখনো নেতিবাচক রয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিডি। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মানুষের আয় বৃদ্ধির গতি এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিপিডি।

তবে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ই-রিটার্নের পরিধি সম্প্রসারণ, রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বাড়ানো, স্টার্টআপ তহবিল এবং কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

সিপিডির মতে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদনের দুর্বলতা কাটাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে টেকসই পুনরুদ্ধারের পথে নেওয়া কঠিন হবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর