অবশেষে বাতিল হলো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ‘হেয়ারকাট’ সিস্টেম
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতে বসানো ‘হেয়ারকাট’ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজনে তাঁর জমানো মূল অর্থ তুলতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শামসুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়– সাক্ষাতের সময় গভর্নর বলেছেন, সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, তাদের আমানতের ওপর কোনো হেয়ারকাট থাকবে না।
আমানতে ‘হেয়ারকাট’ হলো– গুরুতর ব্যাংকিং সংকট বা ঋণ পুনর্গঠনের সময় আমানতের মূল্য আংশিক কমানো। আন্তর্জাতিক রীতি মেনে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকটে পড়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতে হেয়ারকাটের সিদ্ধান্ত দেয়।
তবে গত ৮ জুলাই সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমানতে হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, আমানতকারীরা তাদের টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন। তবে এজন্য একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী তুলতে পারবেন। এজন্য ব্যাংকটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম চালু করে। এতে একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতের অগ্রাধিকারভিত্তিক উত্তোলন এবং অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংকগুলো হলো– ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: