infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশ, তবু দেশে নিরক্ষর প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৯ পিএম

দেশে সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশে পৌঁছালেও এখনো প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর। অর্থাৎ সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ এখনো সাক্ষরতার আওতার বাইরে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার সরকারি লক্ষ্যের সামনে বিপুলসংখ্যক এই জনগোষ্ঠী বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনো মৌলিক সাক্ষরতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাদক্ষতা থেকে বঞ্চিত। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৪ কোটি বলে জানিয়েছে।

নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন। ফলে দেশে সাক্ষরতার হার বাড়লেও একটি বড় জনগোষ্ঠী এখনো শিক্ষার মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে।

সরকারি সংজ্ঞায় সাক্ষরতা কেবল অক্ষরজ্ঞান অর্জন কিংবা নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাতৃভাষায় পড়তে ও পড়া বিষয় অনুধাবন করতে পারা, মৌখিক ও লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন এবং গণনা করার সক্ষমতাকেও সাক্ষরতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রথমেই দেশে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে হবে। এরপর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে এখনো প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর এলাকাভেদে বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

এমন বাস্তবতায় মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ (Literacy for People, the Planet and Prosperity)।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষের নিরক্ষরতা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। ২০৩০ সালের নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে হালনাগাদ তথ্য, অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশ, তবু দেশে নিরক্ষর প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৯ পিএম

দেশে সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশে পৌঁছালেও এখনো প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর। অর্থাৎ সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ এখনো সাক্ষরতার আওতার বাইরে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার সরকারি লক্ষ্যের সামনে বিপুলসংখ্যক এই জনগোষ্ঠী বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনো মৌলিক সাক্ষরতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাদক্ষতা থেকে বঞ্চিত। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৪ কোটি বলে জানিয়েছে।

নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন। ফলে দেশে সাক্ষরতার হার বাড়লেও একটি বড় জনগোষ্ঠী এখনো শিক্ষার মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে।

সরকারি সংজ্ঞায় সাক্ষরতা কেবল অক্ষরজ্ঞান অর্জন কিংবা নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাতৃভাষায় পড়তে ও পড়া বিষয় অনুধাবন করতে পারা, মৌখিক ও লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন এবং গণনা করার সক্ষমতাকেও সাক্ষরতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রথমেই দেশে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে হবে। এরপর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে এখনো প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর এলাকাভেদে বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

এমন বাস্তবতায় মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ (Literacy for People, the Planet and Prosperity)।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষের নিরক্ষরতা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। ২০৩০ সালের নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে হালনাগাদ তথ্য, অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর