infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ট্রেনে চালুর ৬ মাসেই স্টারলিংক ডিভাইস চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা স্টারলিংক স্যাটেলাইট ওয়াই-ফাই সেবা শুরুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালু করা চারটি আন্তঃনগর ট্রেন থেকে একাধিকবার চুরি হয়েছে মূল্যবান স্টারলিংক সংযোগযন্ত্র। সর্বশেষ ঢাকা-সিলেট রুটের উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্টারলিংকের ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা বা স্যাটেলাইট টার্মিনাল।

শুধু উপবন এক্সপ্রেস নয়, পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসেও বিভিন্ন সময়ে স্টারলিংকের তারহীন সংযোগযন্ত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চুরি হওয়া যন্ত্র নতুন করে প্রতিস্থাপনের পরও তা আবার চুরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম স্টারলিংকের যন্ত্রপাতি চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চারটি ট্রেনেই স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছিল। উপবন এক্সপ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে এবং অন্য ট্রেনগুলোতেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে সমন্বিত সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রেনে স্টারলিংক সেবা স্থাপনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং সক্ষমতার ঘাটতি থাকলে এত দামি যন্ত্রপাতি রক্ষা করাও কঠিন।

চলতি বছরের ১৩ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক উচ্চগতির স্টারলিংক ইন্টারনেটের পরীক্ষামূলক সংযোগ চালু হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ নির্দেশনায় এই উদ্যোগে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড বা বিএসসিএল।

প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়। প্রতিটি বগিতে কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে সংযোগ নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। যাত্রীরা মোবাইল ফোনে কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন।

পরীক্ষামূলক এই সেবায় যাত্রীদের সাড়া ছিল উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ট্রেনে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে যেসব দীর্ঘপথে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল কিংবা অনেক এলাকায় একেবারেই পাওয়া যায় না, সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট যাত্রীদের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে।

তবে যাত্রীদের ব্যাপক আগ্রহের মধ্যেই এখন সেবাটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দামি প্রযুক্তি সরঞ্জামের নিরাপত্তা। উপবন এক্সপ্রেসের ছাদে স্টারলিংকের অ্যান্টেনা যেখানে স্থাপন করা হয়েছিল, বর্তমানে সেখানে শুধু খালি হোল্ডার পড়ে আছে। অ্যান্টেনাটি চুরি হয়ে যাওয়ায় ওই ট্রেনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর ক্ষেত্রে মূল কারিগরি সমস্যা না থাকলেও ছাদে থাকা স্যাটেলাইট টার্মিনাল, বগির অভ্যন্তরের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ও অন্যান্য ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ছাদের অ্যান্টেনাটি স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইন্টারনেট সংকেত গ্রহণ করে। পরে ট্রেনের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেই সংযোগ যাত্রীদের ওয়াই-ফাই হিসেবে সরবরাহ করা হয়।

ফলে সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ কোনো একটি যন্ত্র চুরি হয়ে গেলে পুরো ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুরি হওয়া যন্ত্র দ্রুত প্রতিস্থাপন করা গেলেও বারবার একই ঘটনা ঘটলে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সেবার ধারাবাহিকতাও বাধাগ্রস্ত হবে।

বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান বলেন, সরকারের ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই চলন্ত ট্রেনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো মানুষ বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন। কিছু যন্ত্রপাতি চুরি হলেও সেগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপনের কাজ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সেবাকে আরও বিস্তৃত করার কাজ চলছে।

তবে চুরির ঘটনা ও রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপারেশন মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা এবং বার্তা পাঠানো হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে ট্রেনে পরীক্ষামূলক সেবা চালুর পর যাত্রীদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় স্টারলিংক ইন্টারনেট শুধু রেলপথে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বিএসসিএল। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গণপরিবহনেও এই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইতোমধ্যে রাজধানীর নারীদের জন্য নির্ধারিত পিঙ্ক বাসে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু করে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দূরপাল্লার বাস ও ফেরিতেও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে কাজ চলছে।

বিএসসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে একজন যাত্রী একটি মাত্র ইউজার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ট্রেন, বাস ও ফেরিতে ইন্টারনেট সুবিধা নিতে পারবেন। অর্থাৎ পরিবহন পরিবর্তনের পর নতুন করে সংযোগ নেওয়া বা আলাদা প্যাকেজ কেনার প্রয়োজন হবে না।

বিশেষ করে দেশের যেসব দূরপাল্লার সড়ক ও নৌপথে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, অনিয়মিত কিংবা একেবারেই নেই, সেসব এলাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নির্ভরযোগ্য বিকল্প হতে পারে বলে মনে করছে বিএসসিএল।

প্রাথমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটিকে একটি টেকসই ও লাভজনক বাণিজ্যিক মডেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ট্রেনে দামি স্টারলিংক যন্ত্রপাতি বারবার চুরির ঘটনা সেই বড় পরিকল্পনার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করা গেছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ট্রেনে চালুর ৬ মাসেই স্টারলিংক ডিভাইস চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা স্টারলিংক স্যাটেলাইট ওয়াই-ফাই সেবা শুরুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালু করা চারটি আন্তঃনগর ট্রেন থেকে একাধিকবার চুরি হয়েছে মূল্যবান স্টারলিংক সংযোগযন্ত্র। সর্বশেষ ঢাকা-সিলেট রুটের উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্টারলিংকের ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা বা স্যাটেলাইট টার্মিনাল।

শুধু উপবন এক্সপ্রেস নয়, পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসেও বিভিন্ন সময়ে স্টারলিংকের তারহীন সংযোগযন্ত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চুরি হওয়া যন্ত্র নতুন করে প্রতিস্থাপনের পরও তা আবার চুরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম স্টারলিংকের যন্ত্রপাতি চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চারটি ট্রেনেই স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছিল। উপবন এক্সপ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে এবং অন্য ট্রেনগুলোতেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে সমন্বিত সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রেনে স্টারলিংক সেবা স্থাপনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং সক্ষমতার ঘাটতি থাকলে এত দামি যন্ত্রপাতি রক্ষা করাও কঠিন।

চলতি বছরের ১৩ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক উচ্চগতির স্টারলিংক ইন্টারনেটের পরীক্ষামূলক সংযোগ চালু হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ নির্দেশনায় এই উদ্যোগে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড বা বিএসসিএল।

প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়। প্রতিটি বগিতে কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে সংযোগ নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। যাত্রীরা মোবাইল ফোনে কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন।

পরীক্ষামূলক এই সেবায় যাত্রীদের সাড়া ছিল উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ট্রেনে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে যেসব দীর্ঘপথে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল কিংবা অনেক এলাকায় একেবারেই পাওয়া যায় না, সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট যাত্রীদের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে।

তবে যাত্রীদের ব্যাপক আগ্রহের মধ্যেই এখন সেবাটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দামি প্রযুক্তি সরঞ্জামের নিরাপত্তা। উপবন এক্সপ্রেসের ছাদে স্টারলিংকের অ্যান্টেনা যেখানে স্থাপন করা হয়েছিল, বর্তমানে সেখানে শুধু খালি হোল্ডার পড়ে আছে। অ্যান্টেনাটি চুরি হয়ে যাওয়ায় ওই ট্রেনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর ক্ষেত্রে মূল কারিগরি সমস্যা না থাকলেও ছাদে থাকা স্যাটেলাইট টার্মিনাল, বগির অভ্যন্তরের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ও অন্যান্য ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ছাদের অ্যান্টেনাটি স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইন্টারনেট সংকেত গ্রহণ করে। পরে ট্রেনের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেই সংযোগ যাত্রীদের ওয়াই-ফাই হিসেবে সরবরাহ করা হয়।

ফলে সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ কোনো একটি যন্ত্র চুরি হয়ে গেলে পুরো ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুরি হওয়া যন্ত্র দ্রুত প্রতিস্থাপন করা গেলেও বারবার একই ঘটনা ঘটলে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সেবার ধারাবাহিকতাও বাধাগ্রস্ত হবে।

বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান বলেন, সরকারের ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই চলন্ত ট্রেনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো মানুষ বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন। কিছু যন্ত্রপাতি চুরি হলেও সেগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপনের কাজ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সেবাকে আরও বিস্তৃত করার কাজ চলছে।

তবে চুরির ঘটনা ও রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপারেশন মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা এবং বার্তা পাঠানো হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে ট্রেনে পরীক্ষামূলক সেবা চালুর পর যাত্রীদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় স্টারলিংক ইন্টারনেট শুধু রেলপথে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বিএসসিএল। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গণপরিবহনেও এই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইতোমধ্যে রাজধানীর নারীদের জন্য নির্ধারিত পিঙ্ক বাসে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু করে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দূরপাল্লার বাস ও ফেরিতেও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে কাজ চলছে।

বিএসসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে একজন যাত্রী একটি মাত্র ইউজার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ট্রেন, বাস ও ফেরিতে ইন্টারনেট সুবিধা নিতে পারবেন। অর্থাৎ পরিবহন পরিবর্তনের পর নতুন করে সংযোগ নেওয়া বা আলাদা প্যাকেজ কেনার প্রয়োজন হবে না।

বিশেষ করে দেশের যেসব দূরপাল্লার সড়ক ও নৌপথে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, অনিয়মিত কিংবা একেবারেই নেই, সেসব এলাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নির্ভরযোগ্য বিকল্প হতে পারে বলে মনে করছে বিএসসিএল।

প্রাথমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটিকে একটি টেকসই ও লাভজনক বাণিজ্যিক মডেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ট্রেনে দামি স্টারলিংক যন্ত্রপাতি বারবার চুরির ঘটনা সেই বড় পরিকল্পনার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করা গেছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর