infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

জোটের ভরসা নয়, একক লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম

চলতি বছরের ডিসেম্বরে সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কোনো রাজনৈতিক জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সংগঠন ও প্রার্থী নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি।

এরই মধ্যে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে এনসিপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব না হলে প্রথম ধাপে ১১ থেকে ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে তা ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা কমিটি গঠনের পর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলটির মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে প্রার্থী ও সংগঠনের অবস্থান শক্তিশালী করার কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে কর্মীসভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা পর্যায়ের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে সমন্বয় সভা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ওয়ার্ড ও তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করেই স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

প্রার্থী বাছাইয়ে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে এনসিপি। দলটির নেতাদের ভাষ্য, অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং নতুন করে রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এনসিপির সাংগঠনিক নির্দেশনায় উপজেলা নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। আহ্বায়কের বয়স কমপক্ষে ৪০ বছর এবং সদস্যসচিবের বয়স অন্তত ৩০ বছর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন কিংবা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, তাদের কমিটির আহ্বায়ক বা সদস্যসচিব পদে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

নেতৃত্বের ভৌগোলিক অবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে দলটির নির্দেশনায়। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের মধ্যে অন্তত একজনের বাসস্থান শহরের মধ্যে অথবা শহরের আশপাশে হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা কমিটিতে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও জাতিগত জনসংখ্যার আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত, সর্বজনগ্রহণযোগ্য, শক্তিশালী নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, সংগঠনের প্রতি অনুগত এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাংগঠনিক নেতৃত্বে যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনী প্রার্থী ও তৃণমূল সংগঠনকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার কৌশল নিয়েছে দলটি।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরিচিত করার কর্মসূচিও হয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পথসভা ও পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদে সমর্থিত ১০০ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও ১০০ জন প্রার্থীর তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, পদযাত্রার মাধ্যমে এনসিপি উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিটি সম্প্রসারণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছে না এনসিপি। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূলে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী করা সম্ভব, সেই পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবেও নির্বাচনটিকে দেখছে তারা। এ কারণে নির্বাচন ঘোষণার আগেই উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন দাঁড় করানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব প্রার্থী ও সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি চলছে। দলটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে শতাধিক প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে আরও প্রার্থীর নাম ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।

জোটের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাকলেও এনসিপির নেতাদের বক্তব্যে আপাতত এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার অবস্থানই স্পষ্ট। দলটির নেতারা মনে করছেন, জোটের মাধ্যমে নির্বাচন করলে আসন সমঝোতা কিংবা প্রার্থী প্রত্যাহারের মতো বিষয় সামনে আসতে পারে। এতে নতুন দল হিসেবে প্রতিটি এলাকায় নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার সুযোগ সীমিত হতে পারে।

মনিরা শারমিন বলেন, এনসিপি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে নিজেদের শক্তিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যান্য দলও নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এনসিপি ইতোমধ্যে শতাধিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং এখন পর্যন্ত এককভাবেই নির্বাচনে মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

তবে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া এনসিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জও হতে পারে। একদিকে নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারলে তৃণমূলে দলটির গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে প্রত্যাশিত ফল না এলে সংগঠনের দুর্বলতাগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ধারাবাহিক কমিটি গঠন এবং ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের পথেই এগোচ্ছে দলটি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


স্থানীয় সরকার নির্বাচন

জোটের ভরসা নয়, একক লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম

চলতি বছরের ডিসেম্বরে সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কোনো রাজনৈতিক জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সংগঠন ও প্রার্থী নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি।

এরই মধ্যে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে এনসিপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব না হলে প্রথম ধাপে ১১ থেকে ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে তা ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা কমিটি গঠনের পর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলটির মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে প্রার্থী ও সংগঠনের অবস্থান শক্তিশালী করার কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে কর্মীসভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা পর্যায়ের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে সমন্বয় সভা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ওয়ার্ড ও তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করেই স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

প্রার্থী বাছাইয়ে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে এনসিপি। দলটির নেতাদের ভাষ্য, অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং নতুন করে রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এনসিপির সাংগঠনিক নির্দেশনায় উপজেলা নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। আহ্বায়কের বয়স কমপক্ষে ৪০ বছর এবং সদস্যসচিবের বয়স অন্তত ৩০ বছর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন কিংবা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, তাদের কমিটির আহ্বায়ক বা সদস্যসচিব পদে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

নেতৃত্বের ভৌগোলিক অবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে দলটির নির্দেশনায়। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের মধ্যে অন্তত একজনের বাসস্থান শহরের মধ্যে অথবা শহরের আশপাশে হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা কমিটিতে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও জাতিগত জনসংখ্যার আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত, সর্বজনগ্রহণযোগ্য, শক্তিশালী নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, সংগঠনের প্রতি অনুগত এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাংগঠনিক নেতৃত্বে যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনী প্রার্থী ও তৃণমূল সংগঠনকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার কৌশল নিয়েছে দলটি।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরিচিত করার কর্মসূচিও হয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পথসভা ও পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদে সমর্থিত ১০০ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও ১০০ জন প্রার্থীর তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, পদযাত্রার মাধ্যমে এনসিপি উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিটি সম্প্রসারণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছে না এনসিপি। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূলে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী করা সম্ভব, সেই পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবেও নির্বাচনটিকে দেখছে তারা। এ কারণে নির্বাচন ঘোষণার আগেই উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন দাঁড় করানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব প্রার্থী ও সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি চলছে। দলটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে শতাধিক প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে আরও প্রার্থীর নাম ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।

জোটের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাকলেও এনসিপির নেতাদের বক্তব্যে আপাতত এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার অবস্থানই স্পষ্ট। দলটির নেতারা মনে করছেন, জোটের মাধ্যমে নির্বাচন করলে আসন সমঝোতা কিংবা প্রার্থী প্রত্যাহারের মতো বিষয় সামনে আসতে পারে। এতে নতুন দল হিসেবে প্রতিটি এলাকায় নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার সুযোগ সীমিত হতে পারে।

মনিরা শারমিন বলেন, এনসিপি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে নিজেদের শক্তিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যান্য দলও নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এনসিপি ইতোমধ্যে শতাধিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং এখন পর্যন্ত এককভাবেই নির্বাচনে মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

তবে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া এনসিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জও হতে পারে। একদিকে নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারলে তৃণমূলে দলটির গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে প্রত্যাশিত ফল না এলে সংগঠনের দুর্বলতাগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ধারাবাহিক কমিটি গঠন এবং ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের পথেই এগোচ্ছে দলটি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর