infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে লণ্ডভণ্ড জনপদ: ৬০ স্থানে পাহাড়ধস, ৪ সহস্রাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

রাঙামাটিতে গত পাঁচ দিনের টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৬০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল থেকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারী বর্ষণের ফলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে পাহাড়ধস হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বাঘাইছড়ি কাচালং কলেজ ও উপজেলা পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা পানিতে তলিয়ে গেছে।

মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করা সত্ত্বেও অনেক বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। কাপ্তাই উপজেলার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সেখানে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৩টি কেন্দ্রে ১০৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্রই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। জেলা শহরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। জানমালের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে না, তা নিয়ে প্রশাসন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি আবহাওয়া এমন থাকে, তবে দ্রুতই জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিপদ এড়াতে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে লণ্ডভণ্ড জনপদ: ৬০ স্থানে পাহাড়ধস, ৪ সহস্রাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

রাঙামাটিতে গত পাঁচ দিনের টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৬০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল থেকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারী বর্ষণের ফলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে পাহাড়ধস হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বাঘাইছড়ি কাচালং কলেজ ও উপজেলা পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা পানিতে তলিয়ে গেছে।

মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করা সত্ত্বেও অনেক বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। কাপ্তাই উপজেলার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সেখানে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৩টি কেন্দ্রে ১০৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্রই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। জেলা শহরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। জানমালের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে না, তা নিয়ে প্রশাসন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি আবহাওয়া এমন থাকে, তবে দ্রুতই জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিপদ এড়াতে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর