infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

গঙ্গাচড়ায় এইচবিবি সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ শেষের আগেই দেবে গেল রাস্তা

মেহেদি হাসান প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের বেতগাড়ী শাহপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বানিয়াপাড়া পাকা রাস্তা মসজিদ পর্যন্ত নির্মাণাধীন হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত এইচবিবি-ডব্লিউডি-৪১৩ প্যাকেজের অধীনে গঙ্গাচড়ার তিনটি স্থানে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৬১৩ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট বসে গেছে এবং কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। কিছু অংশে পুনরায় সংস্কারের কাজ চললেও কয়েকটি স্থানে শুধু বালু দিয়ে বসে যাওয়া অংশ সমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত ৬ ইঞ্চি বালুর পরিবর্তে অনেক স্থানে প্রায় ৩ ইঞ্চি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয় ভ্যানচালক গোলদার হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তা দেবে যাওয়ায় যানবাহন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী বালু ও প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহার না করায় রাস্তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি নিম্নমানের অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানান।

শাহপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম কাল্টু বলেন, কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়ক দেবে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

উত্তর পানাপুকুর এলাকার জাহানুর রহমান বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালেই অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছিল। এখন রাস্তা দেবে যাওয়ায় সেই অভিযোগের সত্যতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম। তিনি নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইটের ল্যাব পরীক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, ইট পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ইটের ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজ করা উচিত নয়। অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা নিম্নমানের নির্মাণকাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটির কাজ গত ১০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


গঙ্গাচড়ায় এইচবিবি সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ শেষের আগেই দেবে গেল রাস্তা

মেহেদি হাসান

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের বেতগাড়ী শাহপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বানিয়াপাড়া পাকা রাস্তা মসজিদ পর্যন্ত নির্মাণাধীন হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত এইচবিবি-ডব্লিউডি-৪১৩ প্যাকেজের অধীনে গঙ্গাচড়ার তিনটি স্থানে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৬১৩ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট বসে গেছে এবং কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। কিছু অংশে পুনরায় সংস্কারের কাজ চললেও কয়েকটি স্থানে শুধু বালু দিয়ে বসে যাওয়া অংশ সমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত ৬ ইঞ্চি বালুর পরিবর্তে অনেক স্থানে প্রায় ৩ ইঞ্চি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয় ভ্যানচালক গোলদার হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তা দেবে যাওয়ায় যানবাহন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী বালু ও প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহার না করায় রাস্তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি নিম্নমানের অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানান।

শাহপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম কাল্টু বলেন, কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়ক দেবে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

উত্তর পানাপুকুর এলাকার জাহানুর রহমান বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালেই অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছিল। এখন রাস্তা দেবে যাওয়ায় সেই অভিযোগের সত্যতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম। তিনি নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইটের ল্যাব পরীক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, ইট পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ইটের ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজ করা উচিত নয়। অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা নিম্নমানের নির্মাণকাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটির কাজ গত ১০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর