ভারী বর্ষণে বন্যার শঙ্কা
৩ দিনে বিপৎসীমা ছাড়াবে তিস্তা, ঝুঁকিতে ১২ জেলা
দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী তিন দিনের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১২টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক পূর্বাভাসে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিয়ান জানান, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিন দ্রুত বাড়বে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের ধরলা ও দুধকুমার নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
আগামী ৩ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরি, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী ও খাগড়াছড়ির কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের নিচু এলাকাগুলোও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জসহ নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া কক্সবাজারে ১২৯ ও টেকনাফে ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চলেও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। চেরাপুঞ্জিতে ১৩৩ ও মাওকিরওয়াতে ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে। ভারতের উড়িষ্যা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি বর্তমানে লঘুচাপে পরিণত হয়ে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী তিন দিন কমলেও পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন হ্রাস পেতে পারে। বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি স্টেশনের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৮৬টি স্টেশনে পানি কমেছে।
বন্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা ও পাহাড়ি নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: