মনিরামপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি, ২,২০০ কৃষক পেলেন বিনামূল্যে বীজ-সার
'কৃষিই সমৃদ্ধি'—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে যশোরের মনিরামপুরে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২ হাজার ২০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের শাক-সবজির বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তবিবুর রহমান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনিরামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ফজলুল হক, মনিরামপুর পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম, মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সন্তোষ স্বরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহানাজ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহারিয়া হোসেন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস, মো. মোজাফফর হোসেন, কৃষক প্রতিনিধি খলিলুর রহমানসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুলসংখ্যক প্রান্তিক কৃষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানান, এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে চাল কুমড়া, লাউ, শসা, পুঁইশাক, কলমিশাক, মিষ্টি কুমড়া ও বেগুনের উন্নত (উফশী ও হাইব্রিড) জাতের বীজের পাশাপাশি ১৫ কেজি ডিএপি এবং ১৫ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদে উৎসাহিত করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, "বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষি সমৃদ্ধ হলে দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, উন্নত বীজ ও সরকারি প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে কৃষকের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তাও আরও সুদৃঢ় হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে মাহির দায়ান আমিন বলেন, "সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো কৃষক যেন উৎপাদনের শুরুতেই আর্থিক সংকটে পিছিয়ে না পড়েন। কৃষকের হাতে সময়মতো উন্নত বীজ ও সার পৌঁছে দিতে পারলে কৃষির উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।"
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন, "প্রণোদনা শুধু উপকরণ বিতরণ নয়; এটি কৃষকের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি কার্যকর উদ্যোগ। উন্নত জাতের বীজ ও সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফলন নিশ্চিত করে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি উৎপাদনই আমাদের লক্ষ্য।"
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ ও সার তুলে দেওয়া হয়। প্রণোদনা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপকারভোগী কৃষকেরা। মনিরামপুরের কৃষক প্রতিনিধি খলিলুর রহমান বলেন, সরকারি এই সহায়তা উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অধিক ফলন নিশ্চিত করে কৃষিকে আরও লাভজনক করে তুলতে সাহায্য করবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: