নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলের নির্মমতা
৩৮২ জনের জিপিএ-৫-এর আড়ালে ৫০০ শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংস
এক নজরে
- শতভাগ জিপিএ-৫-এর আড়ালে বিতর্ক: নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল থেকে ৩৮২ জন অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেলেও, এই ফলাফলের নেপথ্যে উঠেছে এক নির্মম ছাঁটাই নীতির অভিযোগ।
- টেস্টেই বাদ ৫০০-র বেশি শিক্ষার্থী: অভিযোগ অনুযায়ী, টেস্ট পরীক্ষায় প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী অংশ নিলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি।
- স্কুলের সুনাম বনাম শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ: প্রতিষ্ঠানের শতভাগ জিপিএ-৫-এর রেকর্ড ও কৃত্রিম ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর নষ্ট করার অভিযোগ অভিভাবকদের।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ: বিতর্কিত এই কৌশল খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।
নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর সবাই শতভাগ পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি চমকপ্রদ সাফল্য মনে হলেও, এই ফলাফলের আড়ালে শত শত শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক ভয়ংকর চিত্র সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে—কোনো জাদুকরী শিক্ষাপদ্ধতি নয়, বরং প্রাক-নির্বাচনী ও টেস্ট পরীক্ষায় চূড়ান্ত ছাঁটাই নীতি প্রয়োগ করেই অর্জন করা হয়েছে এই ফলাফল।
প্রকাশিত অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমে সরব হওয়া অভিভাবকদের তথ্য অনুযায়ী, এবার দশম শ্রেণিতে ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বোর্ডে নিজেদের ১০০% জিপিএ-৫ ও দেশসেরা ব্র্যান্ডিংয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখা। আর সেই রেকর্ড টিকিয়ে রাখতে প্রাক-নির্বাচনী এবং টেস্ট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩৮২ জন শিক্ষার্থীকেই কেবল চূড়ান্ত এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষার অজুহাতে আটকে দিয়ে চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষায় বসতেই দেওয়া হয়নি।
সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, একটি নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী কীভাবে কেবল জিপিএ-৫ পায়? সেখানে জিপিএ-৪, জিপিএ-৩ পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী কেন নেই? সাধারণ নিয়মে যেসব শিক্ষার্থী টেস্টে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে, তাদের বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে প্রস্তুত করাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার বদলে তাদের পরীক্ষা থেকে ছাঁটাই করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও ভবিষ্যৎ জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অভিভাবকের মতে, নিজেদের বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডিং ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। এটি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ধ্বংস করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের মানসিক অবিচার।
এ বিষয়ে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন শুধু জিপিএ-৫-এর প্রতিযোগিতা ও ছাঁটাই নীতির মাধ্যমে ভুয়া সুনাম অর্জন করতে না পারে, সেজন্য বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: