infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজপথে রক্ত দেওয়া কর্মীও এখন 'এজেন্ট': শিলিগুড়িতে গ্রেপ্তার সাইফুদ্দিন অপূর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ ২২:০৭ পিএম

ঢাকার রাজপথে প্রতিবাদ জানিয়ে রিমান্ড ও কারানির্যাতন ভোগ করা অকুতোভয় কর্মীও ভারতে গিয়ে নিজ দলের লোকজনের চক্রান্তমূলক ‘এজেন্ট’ অপবাদের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইফুদ্দিন অপূর্বকে এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে গ্রেপ্তার করেছে ফাঁসিদেওয়া থানা-পুলিশ।

গতকাল শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ফাঁসিদেওয়া এলাকার ধানিয়া মোড় থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ভারতের পুলিশ জানায়, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। কিছুদিন কলকাতায় অবস্থানের পর শিলিগুড়ি সীমান্ত দিয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহের মুখে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হস্তান্তর করে।

গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একাধিক ভারতীয় ও বাংলাদেশি সিম কার্ড এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

রাজপথের সংগ্রাম থেকে কারাবাস:
গত বছর ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন নোয়াখালীর সন্তান সাইফুদ্দিন অপূর্ব। সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী মিষ্টি সুভাষ ও রিকশাচালক জাকিরসহ কয়েকজন মাঠপর্যায়ের কর্মী। ওই ঘটনার কিছুদিন পরই রাজধানীর বাড্ডা থানার একটি হত্যা মামলায় অপূর্বকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও ঢাকায় রাজপথের নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে সম্প্রতি মিষ্টি সুভাষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি ভারতে পাড়ি দেন।

মিথ্যা অপবাদ ও দলীয় বিমুখতা:
অভিযোগ উঠেছে, দেশে জেল-জুলুম সহ্য করে ভারতে পাড়ি জমানোর পর সেখানে আশ্রয় পাওয়ার বদলে অপূর্বর কপালে জোটে চক্রান্তমূলক মিথ্যা অপবাদ। কলকাতায় অবস্থানরত দলের একটি স্বার্থান্বেষী অংশ তাঁকে ভিত্তিহীনভাবে ‘বিরোধী শিবিরের এজেন্ট’ বানিয়ে একঘরে করে ফেলে।

মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বড় বড় সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা নিজেদের সুবিধা টিকিয়ে রাখতে গোপনে বিরোধী রাজনীতিকদের সঙ্গে আপোষ করে চললেও, রাজপথের লড়াকু তৃণমূল কর্মীদের রক্ষা করতে কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না। উল্টো রাজপথে সোচ্চার হওয়া সাধারণ কর্মীরা যাতে কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেজন্য তাঁদের ওপর ভিত্তিহীন 'এজেন্ট' তকমা দিয়ে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

নিজ দলের চরম অবহেলা, ভিত্তিহীন অপবাদ ও বিমুখতার মুখে পড়ে মানসিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন অপূর্ব। বাধ্য হয়ে শিলিগুড়ি সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার ঝুঁকি নেন এবং ভারতের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

সাইফুদ্দিন অপূর্বর এই গ্রেপ্তারের ঘটনা বিদেশে অবস্থানরত ও দেশের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিজেদের নিঃস্বার্থ কর্মীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পর করে দেওয়ার এই অপসংস্কৃতির অবসান না হলে ভবিষ্যতে রাজপথে দাঁড়ানোর মতো কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন দলের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


রাজপথে রক্ত দেওয়া কর্মীও এখন 'এজেন্ট': শিলিগুড়িতে গ্রেপ্তার সাইফুদ্দিন অপূর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ ২২:০৭ পিএম

ঢাকার রাজপথে প্রতিবাদ জানিয়ে রিমান্ড ও কারানির্যাতন ভোগ করা অকুতোভয় কর্মীও ভারতে গিয়ে নিজ দলের লোকজনের চক্রান্তমূলক ‘এজেন্ট’ অপবাদের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইফুদ্দিন অপূর্বকে এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে গ্রেপ্তার করেছে ফাঁসিদেওয়া থানা-পুলিশ।

গতকাল শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ফাঁসিদেওয়া এলাকার ধানিয়া মোড় থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ভারতের পুলিশ জানায়, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। কিছুদিন কলকাতায় অবস্থানের পর শিলিগুড়ি সীমান্ত দিয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহের মুখে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হস্তান্তর করে।

গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একাধিক ভারতীয় ও বাংলাদেশি সিম কার্ড এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

রাজপথের সংগ্রাম থেকে কারাবাস:
গত বছর ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন নোয়াখালীর সন্তান সাইফুদ্দিন অপূর্ব। সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী মিষ্টি সুভাষ ও রিকশাচালক জাকিরসহ কয়েকজন মাঠপর্যায়ের কর্মী। ওই ঘটনার কিছুদিন পরই রাজধানীর বাড্ডা থানার একটি হত্যা মামলায় অপূর্বকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও ঢাকায় রাজপথের নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে সম্প্রতি মিষ্টি সুভাষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি ভারতে পাড়ি দেন।

মিথ্যা অপবাদ ও দলীয় বিমুখতা:
অভিযোগ উঠেছে, দেশে জেল-জুলুম সহ্য করে ভারতে পাড়ি জমানোর পর সেখানে আশ্রয় পাওয়ার বদলে অপূর্বর কপালে জোটে চক্রান্তমূলক মিথ্যা অপবাদ। কলকাতায় অবস্থানরত দলের একটি স্বার্থান্বেষী অংশ তাঁকে ভিত্তিহীনভাবে ‘বিরোধী শিবিরের এজেন্ট’ বানিয়ে একঘরে করে ফেলে।

মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বড় বড় সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা নিজেদের সুবিধা টিকিয়ে রাখতে গোপনে বিরোধী রাজনীতিকদের সঙ্গে আপোষ করে চললেও, রাজপথের লড়াকু তৃণমূল কর্মীদের রক্ষা করতে কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না। উল্টো রাজপথে সোচ্চার হওয়া সাধারণ কর্মীরা যাতে কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেজন্য তাঁদের ওপর ভিত্তিহীন 'এজেন্ট' তকমা দিয়ে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

নিজ দলের চরম অবহেলা, ভিত্তিহীন অপবাদ ও বিমুখতার মুখে পড়ে মানসিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন অপূর্ব। বাধ্য হয়ে শিলিগুড়ি সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার ঝুঁকি নেন এবং ভারতের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

সাইফুদ্দিন অপূর্বর এই গ্রেপ্তারের ঘটনা বিদেশে অবস্থানরত ও দেশের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিজেদের নিঃস্বার্থ কর্মীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পর করে দেওয়ার এই অপসংস্কৃতির অবসান না হলে ভবিষ্যতে রাজপথে দাঁড়ানোর মতো কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন দলের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর