ঢাবি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান গোলাম রাব্বানীর, রাশেদকে কটাক্ষ করে বললেন ‘পৌনে হাফ জিএস’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিন্ডিকেট কর্তৃক নিজের এমফিল ছাত্রত্ব বাতিল ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ অবৈধ ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ‘অনৈতিক’, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ ও ‘এখতিয়ার বহির্ভূত’ আখ্যা দিয়ে তিনি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
একইসঙ্গে ডাকসুর নতুন জিএস হিসেবে ঘোষিত মো. রাশেদ খাঁনকে ‘পৌনে হাফ জিএস’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
প্রেক্ষাপট:
দীর্ঘ ৭ বছর পর সম্প্রতি (৩১ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় গোলাম রাব্বানীর এমফিল ভর্তি অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। ছাত্রত্ব না থাকার কারণে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদটিও বাতিল ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। একইসঙ্গে ওই নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া মো. রাশেদ খাঁনকে ডাকসুর জিএস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর রাশেদ খাঁন ফেসবুকে তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, রাব্বানী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারণ দর্শানো নোটিশের উপযুক্ত জবাব দিতে পারেননি।
গোলাম রাব্বানীর প্রতিক্রিয়া ও দাবি:
রাশেদ খাঁনের ওই পোস্ট ও ঢাবি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি বিবৃতি দেন গোলাম রাব্বানী। তিনি বর্তমান ঢাবি প্রশাসনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ উল্লেখ করে বলেন, “২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে প্রার্থিতা এবং পরবর্তী ডাকসু পরিচালনা সম্পূর্ণ বৈধ, বিধিসম্মত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছিল।”
তার দাবি, এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অনুষদের এখতিয়ারভুক্ত ছিল। তৎকালীন ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই করেই তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। ডাকসু নির্বাচনে বা তারপরে তার বিরুদ্ধে কোনো জালিয়াতি বা কারচুপির নিয়ে কেউ আইনের আশ্রয় নেয়নি বা অভিযোগও তোলেনি।
বর্তমান ঢাবি প্রশাসনের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাব্বানী বলেন, “কোনো অভিযোগ বা অসঙ্গতি পেলে নির্বাচন পরবর্তীতে পদ বাতিলের এখতিয়ার কেবল ডাকসুর তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার। তাই, বর্তমান প্রশাসন শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জিএস পদ অবৈধ ঘোষণা করার এখতিয়ার রাখে না।”
রাশেদ খাঁনকে কটাক্ষ:
রাশেদ খাঁনকে নতুন জিএস ঘোষণা প্রসঙ্গে রাব্বানী উপহাস করে বলেন, “ইতিপূর্বে আমি রাশেদকে 'হাফ জিএস' অভিহিত করেছিলাম, এজন্য দুঃখিত। এটা আসলে 'পৌনে হাফ জিএস' হবে, যেহেতু তার প্রাপ্য ভোট আমার অর্ধেকেরও কিছু কম!”
নোটিশের জবাব না দেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, অসাংবিধানিক সরকারের নিয়োগকৃত অবৈধ প্রশাসনের নোটিশের জবাব দেওয়ার আগ্রহ তার ছিল না। তারপরও বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হবে ভেবে তিনি যথাসময়ে অফিসিয়াল ইমেইল ও ডাকযোগে দুটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছেন। প্রমাণস্বরূপ তিনি তার মন্তব্যের ঘরে নোটিশ ও জবাব সংযুক্ত করার কথাও জানান।
নিজেকে তুলনা করলেন বঙ্গবন্ধুর সাথে:
সবশেষে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বহিষ্কারের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে রাব্বানী বলেন, “যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা চাওয়ায় বঙ্গবন্ধুকে আজীবন বহিষ্কার করতে পারে, তাঁর আইন বিভাগের অনুজ হিসেবে বর্তমান দলদাস প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবৈধ সিদ্ধান্তকে আমি আশীর্বাদ হিসেবেই নিচ্ছি।”
একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই এখতিয়ার বহির্ভূত অনৈতিক প্রহসনের সাথে জড়িতদের জন্য অনাগত ভবিষ্যৎ অভিশাপ হয়েও আসতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: