infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

২৫ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণেই ধস, কাজ শেষ হওয়ার আগেই খানাখন্দে ভরল মাদারীপুর-শরীয়তপুর মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বেহাল হয়ে পড়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, উঠে গেছে বিটুমিন ও পাথর, কোথাও কোথাও ভেঙে বেরিয়ে এসেছে রড। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর সদর থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (টেন্ডার আইডি: ১১৭৬২৯১)। চলতি বছরের মার্চে কাজ শুরু হয় এবং আগামী নভেম্বরে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইটেরপুল বাজার এলাকায় ঢালাই করা অংশের শুরু ও শেষ মিলিয়ে অন্তত ২৫টি স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া কাজীর মোড়, কলেজ মোড় ও থানা রোডসংলগ্ন অংশে বিটুমিন উঠে গিয়ে সড়ক অসমান ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে গর্তগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের যথাযথ তদারকির অভাবেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির এই বেহাল অবস্থা হয়েছে।

ইটেরপুল এলাকার বাসিন্দা আবদুল মোমিন বলেন, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় এখন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী টুটুল বলেন, কাজ চলাকালেই একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলিম মাতুব্বর, সোহেল মাতুব্বর ও ইমাম হাওলাদারসহ অনেকেই দাবি করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। তাদের ভাষ্য, যেদিন একটি অংশে কাজ শেষ হচ্ছে, পরদিনই সেখানে গর্ত তৈরি হচ্ছে। তারা পুরো প্রকল্পের গুণগত মান ও সম্ভাব্য অনিয়ম তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি দাবি করেন, সড়ক মেরামতের নামে সড়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

এদিকে সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বিটুমিন, বালু ও ইট ব্যবহার করে সাময়িক মেরামতের কাজ শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি স্থায়ী সমাধান নয়; বরং মূল অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা।

মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. ম. নকিবুল বারী বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সাময়িকভাবে মেরামতের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের শুরুতে তিনি দায়িত্বে ছিলেন না, তাই নির্মাণকাজের মান নিয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং টেকসই মান নিশ্চিত করে সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


২৫ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণেই ধস, কাজ শেষ হওয়ার আগেই খানাখন্দে ভরল মাদারীপুর-শরীয়তপুর মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বেহাল হয়ে পড়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, উঠে গেছে বিটুমিন ও পাথর, কোথাও কোথাও ভেঙে বেরিয়ে এসেছে রড। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর সদর থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (টেন্ডার আইডি: ১১৭৬২৯১)। চলতি বছরের মার্চে কাজ শুরু হয় এবং আগামী নভেম্বরে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইটেরপুল বাজার এলাকায় ঢালাই করা অংশের শুরু ও শেষ মিলিয়ে অন্তত ২৫টি স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া কাজীর মোড়, কলেজ মোড় ও থানা রোডসংলগ্ন অংশে বিটুমিন উঠে গিয়ে সড়ক অসমান ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে গর্তগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের যথাযথ তদারকির অভাবেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির এই বেহাল অবস্থা হয়েছে।

ইটেরপুল এলাকার বাসিন্দা আবদুল মোমিন বলেন, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় এখন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী টুটুল বলেন, কাজ চলাকালেই একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলিম মাতুব্বর, সোহেল মাতুব্বর ও ইমাম হাওলাদারসহ অনেকেই দাবি করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। তাদের ভাষ্য, যেদিন একটি অংশে কাজ শেষ হচ্ছে, পরদিনই সেখানে গর্ত তৈরি হচ্ছে। তারা পুরো প্রকল্পের গুণগত মান ও সম্ভাব্য অনিয়ম তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি দাবি করেন, সড়ক মেরামতের নামে সড়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

এদিকে সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বিটুমিন, বালু ও ইট ব্যবহার করে সাময়িক মেরামতের কাজ শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি স্থায়ী সমাধান নয়; বরং মূল অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা।

মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. ম. নকিবুল বারী বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সাময়িকভাবে মেরামতের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের শুরুতে তিনি দায়িত্বে ছিলেন না, তাই নির্মাণকাজের মান নিয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং টেকসই মান নিশ্চিত করে সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর