আশাশুনিতে আবু তালেব গাজীর বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে ৮৬ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আবু তালেব গাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন মোড়লের অভিযোগ, তার নাবালক দুই ছেলের নামে থাকা ওই জমি সম্প্রতি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ফটিকখালী গ্রামের আবু তালেব গাজী লোকজন নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বাধা দিতে গেলে আবু তালেব ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন ফারুক হোসেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হন।
ফারুক হোসেন মোড়ল জানান, তার নাবালক দুই ছেলের নামে খাজরা ইউনিয়নে মোট ৮৬ শতক জমি রয়েছে। তিনি ওই জমির দখল বুঝে নিতে গেলে আবু তালেব গাজী ও তার লোকজন বাধা দেন। এ সময় লাঠি, কোদাল, দা ও শাবলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রবিউল ইসলামকে জানান ফারুক হোসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম এবং খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস আলী আবু তালেব গাজীকে এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানানোর পরও জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ফারুক হোসেন। তার দাবি, পরবর্তীতে আবু তালেব গাজী ট্রাক্টর দিয়ে ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন।
ফারুক হোসেন মোড়ল আরও জানান, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জমিটির মালিকানা ভোগ করে আসছে। তার বাবা নূর মোহাম্মদ মোড়ল খাজরা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং তার চাচা মো. মোবারক আলী মোড়ল খাজরা ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় জমি দখলের চেষ্টা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ফারুক হোসেন মোড়ল বলেন, তার নাবালক দুই ছেলের নামে থাকা জমি যেন কেউ জোরপূর্বক দখল করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জমি দখলের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আবু তালেব গাজীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। জমিটির মালিকানা, দখল ও চাষাবাদ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: