infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

টেকসই নগরায়নে ভৌত পরিকল্পনা ও ট্রান্সপোর্ট মডেলিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়নের ফলে সৃষ্টি হওয়া বহুমাত্রিক সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত ভৌত পরিকল্পনা, কার্যকর ভূমি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ট্রান্সপোর্ট মডেলিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।

শনিবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে নগরায়নের প্রবণতা, পুনর্বিন্যাস ও পরিবহন মডেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি বিভাগে আয়োজিত এ সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইউআরপি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আশরাফুজ্জামান প্রামাণিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষক সায়মুন্নাহার রিতু।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নূরুল্লাহ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে দ্রুত নগরায়ন ঘটলেও তা পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়নি। ফলে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, কৃষিজমি ও জলাভূমি হ্রাস, উন্মুক্ত স্থানের সংকট এবং নাগরিক সেবার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন, আধুনিক নগর ও গ্রাম পরিকল্পনা আইন প্রণয়ন, নগর ও গ্রাম পরিকল্পনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা কাউন্সিল গঠন এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে শতভাগ ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও জোনিং বাস্তবায়ন জরুরি।

অপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞ ও এসএমইসি বাংলাদেশ-এর সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ। তিনি বলেন, নগর পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে তথ্যভিত্তিক ট্রান্সপোর্ট মডেলিং অপরিহার্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের চাপ এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত চাহিদা বিবেচনায় বৈজ্ঞানিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে যানজট হ্রাস, বিনিয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, দেশের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নগরায়নকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দক্ষ পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং কার্যকর আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নগরায়ন, ভূমি ব্যবহার, পরিবহন পরিকল্পনা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বক্তারা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


টেকসই নগরায়নে ভৌত পরিকল্পনা ও ট্রান্সপোর্ট মডেলিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়নের ফলে সৃষ্টি হওয়া বহুমাত্রিক সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত ভৌত পরিকল্পনা, কার্যকর ভূমি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ট্রান্সপোর্ট মডেলিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।

শনিবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে নগরায়নের প্রবণতা, পুনর্বিন্যাস ও পরিবহন মডেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি বিভাগে আয়োজিত এ সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইউআরপি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আশরাফুজ্জামান প্রামাণিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষক সায়মুন্নাহার রিতু।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নূরুল্লাহ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে দ্রুত নগরায়ন ঘটলেও তা পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়নি। ফলে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, কৃষিজমি ও জলাভূমি হ্রাস, উন্মুক্ত স্থানের সংকট এবং নাগরিক সেবার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন, আধুনিক নগর ও গ্রাম পরিকল্পনা আইন প্রণয়ন, নগর ও গ্রাম পরিকল্পনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা কাউন্সিল গঠন এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে শতভাগ ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও জোনিং বাস্তবায়ন জরুরি।

অপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞ ও এসএমইসি বাংলাদেশ-এর সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ। তিনি বলেন, নগর পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে তথ্যভিত্তিক ট্রান্সপোর্ট মডেলিং অপরিহার্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের চাপ এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত চাহিদা বিবেচনায় বৈজ্ঞানিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে যানজট হ্রাস, বিনিয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, দেশের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নগরায়নকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দক্ষ পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং কার্যকর আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নগরায়ন, ভূমি ব্যবহার, পরিবহন পরিকল্পনা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বক্তারা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর