মাশরাফীর বাড়ি পোড়ানোর বিচার চান বৈষম্যবিরোধী নেতা মিনহাজ
নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বাড়ি পোড়ানোয় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মিনহাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের দিন বাড়ি পোড়ানোর ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করে এ বিচার দাবি করেন তরুণ কবি ও কলামিস্ট মিনহাজুল ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে এ দাবি জানান তিনি।
তার পোস্টে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বাড়ি পোড়ানোর বিচার দাবির স্বপক্ষে চারটি কারণ তুলে ধরেছেন৷ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো:
যে কারণে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বাড়ি পোড়ানোর বিচার হওয়া উচিত :
এক. রাজনীতিতে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে, ক্ষমতার পটপরিবর্তন হবে। অনেকে রাজনীতির ময়দানে অপরাধও করবে, তবে সে অপরাধ বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। কারো বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া, ভাঙচুর চালানো অমানবিক কাজ। তাছাড়া মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা রাজনীতির বাইরে নড়াইলে মানুষের জন্য একটি বিশেষ নাম। যে সকল আহাম্মকরা তাঁর বাড়িতে কুঠারাঘাত করেছে, তারা মহা ভুল করেছে। পরপারে হয়ত তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
দুই. মাশরাফীর বাড়ি পুড়িয়ে ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদনের কাঁচামাল তৈরি করেছে উগ্রবাদীরা :
মাশরাফি আওয়ামী লীগের তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা নন। তবুও সারাদেশে আওয়ামীপন্থিরা কিছুদিন পর পর মাশরাফীর পোড়াবাড়ির ছবিটি দেখিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে ফেসবুকে সহানুভূতি তৈরি করেন। আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকরাও কিছুদিন পরপর এ বাড়ি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেন। ভবিষ্যতে যখন আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে রাজনীতিতে ফেরার পথ উন্মোদন করতে ব্যর্থ হবে, তখন মাশরাফী, সাকিব আল হাসান, মেহের আফরোজ শাওন, মাহিয়া মাহিদের মতো সেলিব্রিটিদের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসার গুপ্ত চেষ্টা চালাতে পারে। এমনকি ধানমন্ডি-৩২ এর মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা পোড়ানোর বিষয়টি বারবার সামনে এনেও আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের সহানুভূতি সেভাবে পায়নি, কিন্তু মাশরাফীর পোড়া বাড়ির ছবিটি সামনে এনে অনেকটাই সহানুভূতি পাচ্ছে তারা। তাহলে কেন তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহানুভূতি উৎপাদনের স্থায়ী কাঁচামাল প্রস্তুত করা হলো? দা'ঙ্গাকারীরা কি ইতিহাস পড়েনি? ভবিষ্যতের কথা চিন্তা কেন করেনি তারা? যারা রাজনীতি বুঝেন, তারা কেন তখন বাধা দেননি?
তিন. ২০২৪ এর ডামি নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বৃহৎ অংশের নেতাকর্মীরাই মাশরাফীর বিরোধিতা করেছে, যেন তিনি মনোনয়ন না পান। সেজন্য মাশরাফীকে নিয়ে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করেছে, রাজাকারের বংশধর বলে ট্যাগ দিয়েছে। অথচ আজ সেই আওয়ামী লীগই পাঁচ আগস্টের পরে কেন শুধু মাশরাফির নামে জিকির করে? নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোন নেতাও নন মাশরাফী। তাহলে কেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম বাদ দিয়ে সারাদিন মাশরাফী জিকির? নড়াইলে ও সারাদেশে আরো অনেক আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি পোড়ানো হয়েছে সেই পোড়াবাড়ির ছবি আওয়ামী লীগের কাউকে সচারচার পোস্ট করতে দেখি না। ফেসবুকে শুধু দেখি মাশরাফীর বাড়ির ছবি আপলোড করতে। এর কারণ একটাই- মাশরাফির প্রতি সাধারণ মানুষের একটা শ্রদ্ধা রয়েছে, ভালোবাসা রয়েছে। পোড়া বাড়িটা দেখিয়ে সেসব সাধারণ মানুষদের থেকে সুকৌশলে সমর্থন আদায় করা। এই যে ফ্যাসিবাদী দলের পক্ষে সহানুভূতি উৎপাদনের জন্য মাশরাফির পোড়া বাড়িটা কাজ করছে, এই সুযোগটা যারা করে দিল তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।
চার. আমরা সবাই জানতাম ২০১৮ সালে প্রথমবার মাশরাফির নিজেও আওয়ামীলীগের এমপি হতে চাননি। শেখ হাসিনা তাঁকে জোরাজুরি করেই মনোনয়ন দিয়েছিলেন। যদিও ২০২৪ এ তিনি নিজেই এমপি হওয়ার জন্য চেষ্টা-তদবির করেন। তবে সুযোগ ছিল আওয়ামী লীগের পতনের পর মাশরাফী আবারও দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে জনতার কাতারে ফিরে আসার, ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে কাজ করার। কিন্তু সে আসার গুড়ে বালি! পোড়াবাড়িটার দিকে তাকিয়ে মাশরাফী আর আওয়ামী লীগ ছাড়তে পারবেন না! তার ভেতরে কাজ করবে প্রতিশোধপরায়ণতা। অন্য কোন দলে তাঁর আশ্রয় হবে না জেনে, তিনি আর আওয়ামী লীগ ছাড়বেন না! এভাবেই মাশরাফীকে আওয়ামী লীগে স্থায়ী করার ব্যবস্থা করেছে তাঁর বাড়ি পোড়ানো দাঙ্গাবাজরা। তাই তাদের বিচার চাই।
পরিষেশে, ইউটিউব ফেসবুকে মাশরাফীর বাড়ি পোড়ানোর পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। সেগুলো দেখলে টের পাওয়া যাবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা তো মাশরাফীর বাড়ির ওপর এমন প্রতিহিংসা দেখতে চায়নি। অথচ কেউই এ ঘটনার বিচারের জন্য দাবি তোলে না। এমনকি আওয়ামীলীগও না। আওয়ামীলীগ কর্মীদের চোখে যখন যাকে শত্রু মনে হয়, তাকে মাশরাফীর বাড়ি পোড়ানোর জন্য দায়ী করে। অথচ তারা নিজেরাও ভালো করে জানে কারা পুড়িয়েছে। ছবি ফুটেজ রয়েছে। তবুও তাদের হবে না! যারা পুড়িয়েছে তাদের মুখোমুখি হওয়া কিংবা বিচার চাওয়ার সাহস হয়তোবা আওয়ামী লীগের নাই। কারণ, তারা হয়ত প্রভাবশালী। তাই যখন তখন কেবল এটিকে পুঁজি করে রাজনীতি করে আওয়ামী লীগ। তাই আমি এমন রাজনীতি বন্ধে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বাড়ি পোড়ানোর বিচার চেয়ে গেলাম। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আর কারো গৃহে আগুন না জ্বলুক।"

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: