হাতিয়ায় টানা বৃষ্টিতে কৃষিখাতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা, বিপাকে ৮০ হাজার কৃষক
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং কৃষি বিভাগ প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর অনেক সবজি গাছের গোড়ায় পচন ধরছে এবং আমনের বীজতলার চারাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চরকিং ইউনিয়নের চরকৈলাশ গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া জানান, বৃষ্টি শুরুর ১০ দিন আগে তিনি ৬০ কেজি আমনের বীজ বপন করেছিলেন। টানা বর্ষণে তার বীজতলা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে চারপাশে উঁচু বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত চারা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর অধিকাংশ চারা নুয়ে পড়ে। ফলে তিনি আবার নতুন করে বীজ বপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শুধু ফরিদ মিয়াই নন, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অসংখ্য কৃষক একই ধরনের সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত চরকিং ও চরঈশ্বর ইউনিয়নের অধিকাংশ সবজিখেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। পানি সরে যাওয়ার পর গাছের গোড়ায় পচন ধরে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামের কৃষক খোকন জানান, তিনি প্রায় এক একর জমিতে ঝিঙা চাষ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে গাছের গোড়া পচে যাওয়ায় পুরো খেতের গাছ তুলে ফেলতে হচ্ছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে এই চাষাবাদ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো আয় করতে পারেননি। এতে ঋণের চাপ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাসেদ সবুজ বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন জেলা কৃষি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত পুনর্বাসন ও কৃষকদের জন্য প্রণোদনা নিশ্চিত করা না হলে চলতি মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: