জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতোতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ১। এ ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ভুমিকম্পে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেন। এর ফলে মৃতের সংখ্যা আগে জানানো তিনজনের থেকে বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়াল।
ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া জীবিতদের সন্ধানে মরিয়া হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। ১৫ বছরের মধ্যে জাপানে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে ধারণা হচ্ছে।
ভূমিকম্প আঘাত হানার একদিন পর টোকিওতে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তাকাইচি বলেন, ‘এখনও মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় আছে। এটি সময়ের বিপরীতে আমাদের দৌড়। আমরা যত বেশি সম্ভব মানুষকে বাঁচাতে ও উদ্ধার করতে যা যা করা প্রয়োজন সব করব।’
জাপানের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের কুমামোতোতে ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ওপর থেকে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ ও ভেঙে যাওয়া কাচের আঘাতে অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মধ্য কিউশুর বৃহত্তম শহর কুমামোটো সিটি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দক্ষিণে। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হওয়া এলাকার বাসিন্দাদের প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে।
সানায়ে তাকাইচি তার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচানো সরকারের প্রধান কাজ। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি তাদের সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী পরাঘাত (ভূমিকম্পের পর কম্পন) হতে পারে।’
উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, কুমামোতোতে ধসে পড়া একটি বিপণিবিতানের ভেতরে বেশ কিছু মানুষ আটকা পড়েছেন। সেই ভবনে অনেক ব্যক্তি নিহত হতে পারেন। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনির পর কুমামোতোর ইয়ন বিপণিবিতান থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে ভবনটির দ্বিতীয় তলার একাংশ ধসে পড়েছে।
বুধবার ভোরে উদ্ধারকারীরা শপিং মলের ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে উদ্ধার করেছে। ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর অজ্ঞাত কারণে হওয়া এক বিস্ফোরণে মলটি ভেঙেচুরে যায়। এতে ২০ বছর বয়সি দুই নারী নিহত হন।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ একটি সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করছে।
জরুরি উদ্ধারকারী দল, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ভবনটির সেইসব এলাকায় মনোযোগ দিচ্ছিল যেখান থেকে সাহায্যের জন্য ফোন এসেছিল।
সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন মল কর্মী নিখোঁজ ছিলেন। নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় একটি চিমনি ধসে পড়ার পর সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে একজন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে কয়েক ডজন রোগীর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পের পরপর জাপানের আবহাওয়া দফতর উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল। তারা কুমামোতো, নাগাসাকিসহ কয়েকটি এলাকায় এ সতর্কতা জারি করে। তবে আবহাওয়া–বিশেষজ্ঞরা সাগরের পানিতে বড় কোনো পরিবর্তন দেখতে পাননি। তাই প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবহাওয়া দপ্তর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়।
ভূমিকম্পে কিউশু দ্বীপের অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রেল কর্তৃপক্ষ বুলেট ট্রেন চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত জাপান ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ে থাকায় সেখানে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এদিকে, ভূমিকম্পের পরদিন বুধবার তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়। এখনও ৩৬,০০০-এরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন থাকায় কর্তৃপক্ষ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: