ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিতর্কিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের রাজত্বের অবসান: ময়মনসিংহে বদলি!
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) টেন্ডার বাণিজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি ও শাখা সিন্ডিকেটের মাফিয়া হিসেবে পরিচিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলামকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাসপাতাল জিম্মি করে রাখার অভিযোগের পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেট ও মাফিয়াতন্ত্রের রাজত্ব:
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢামেকে অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম নিজের খেয়ালখুশিমতো হাসপাতাল পরিচালনা করছিলেন। হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার কেনাকাটা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বরাদ্দ বণ্টন এবং প্রশাসনিক শাখায় নিজস্ব বলয় তৈরি করেছিলেন তিনি। তার ইশারা ছাড়া ঢামেকের কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতো না। সাধারণ ঠিকাদার থেকে শুরু করে হাসপাতালের কর্মচারীরাও তার গড়ে তোলা সিন্ডিকেটের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।
অধিদপ্তরের কড়া বার্তা ও আল্টিমেটাম:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং- ১২৭৬/১(৯)) স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী:
১. ঢামেকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।
২. তার স্থলাভিষিক্ত করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ঢামেকে পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ হতে পরবর্তী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ৪র্থ কর্মদিবস থেকে তিনি সরাসরি অব্যাহতি (স্ট্যান্ড রিলিজ) পেয়েছেন বলে গণ্য হবেন।
ঢামেকে স্বস্তি, তবে অবৈধ সম্পদের তদন্তের দাবি:
রেজাউল ইসলামের এই বদলির আদেশের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের মাঝে চরম স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল বদলিই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অপরাধের শেষ শাস্তি হতে পারে না।
সচেতন মহলের দাবি, ঢামেকে দীর্ঘ সময় ধরে টেন্ডার বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট চালিয়ে তিনি যে বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সাথে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েও যেন তিনি নতুন কোনো সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারেন, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সতর্ক নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: