আওয়ামী লীগের বিদায়ের পেছনে ভারতের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল: গোলাম মাওলা রনি
দিল্লিতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের কৌশলগত ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসন এবং আকস্মিক ক্ষমতাচ্যুতির নেপথ্যে ভারতের প্রচ্ছন্ন ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা সবুজ সংকেত ছিল।
সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব দাবি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
বিএনপি-ভারত ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও গ্যাস রফতানি বিতর্ক
গোলাম মাওলা রনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় থেকেই দিল্লির সাথে একটি সমঝোতামূলক সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা চলছিল। তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান ও বিনিয়োগ বোর্ডের উদ্যোগে ভারতের টাটা গ্রুপের বিনিয়োগ এবং গ্যাস রফতানির নীতিগত আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী বিভিন্ন মহল এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল।
রনির মতে, ২০০১ সালে বিএনপির ক্ষমতায় আসার পেছনেও ভারতের প্রচ্ছন্ন ভূমিকা ছিল বলে অতীতে শেখ হাসিনা নিজেই একাধিকবার দাবি করেছিলেন। এমনকি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরের সময় তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের সমতুল্য প্রটোকল দেওয়া হয়েছিল, যা দুই পক্ষের মধ্যকার সুসম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
আওয়ামী লীগের পতন ও ভারতের ভূমিকা
সাবেক এই সংসদ সদস্য দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির বিষয়ে তিনি প্রায় এক দশক আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা ২০১২-১৩ সাল থেকেই বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে নিয়মিত বলে আসছি যে, আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হবে ভারতের কারণেই এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনাকে ভারতই আশ্রয় দেবে।”
তিনি যোগ করেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব খুব ভালো করেই জানে যে তাদের আকস্মিক ক্ষমতাচ্যুতির পেছনে দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একধরনের সবুজ সংকেত বা সম্মতি ছিল।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থান ও নেতৃত্ব বদলের চেষ্টা
আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ক্ষমতাচ্যুতির পর দলটির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব বদল নিয়ে দিল্লির নানা প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন রনি। তাঁর ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য ভারত ও অন্যান্য পক্ষ চেষ্টা করলেও শেখ হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে তা সফল হয়নি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দিল্লির মাটিতে বসেই বার্তা দিয়েছেন যে তাঁর রাজনীতি এবং দেশে ফেরার বিষয়টি একান্তই তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত, এতে ভারতের কোনো প্রভাব খাটবে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যও শেখ হাসিনার এই অবস্থানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলে তিনি মনে করেন।
ব্যক্তিত্বের বিশ্লেষণ ও কৌশলগত কূটনীতি
বক্তব্যের শেষভাগে শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব ও কূটনীতির বিশ্লেষণ করে গোলাম মাওলা রনি বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মতো ভারত বিশেষজ্ঞ আর কেউ নেই। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের সাথে তাঁর সুদৃঢ় ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ভারত ও চীনের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। তাঁর দৃঢ়চেতা ও বেপরোয়া স্বভাবের কারণে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি নিজস্ব সিদ্ধান্ত বজায় রাখতে সক্ষম হন বলে মন্তব্য করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: