infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

সহপাঠীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল মনিরামপুর: রাজপথে শিক্ষার্থীরা, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

যশোরের মনিরামপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

আজ সোমবার (৭ জুলাই) সকালে মনিরামপুর আদর্শ সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পৌর শহরে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এদিন সকালে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে কয়েকশ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মনিরামপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্কুলের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা 'আমার বোন ধর্ষিত কেন? প্রশাসন জবাব চাই', 'ধর্ষকের ফাঁসি চাই' এমন সব স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পড়তে যাওয়ার পথে দিনের আলোয় এমন নেক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুততম সময়ে মূল অভিযুক্তসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল ৬টার দিকে মনিরামপুর আদর্শ সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী তার সহপাঠী রাফিদকে সঙ্গে নিয়ে গণিত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস আলীর বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পথে জয়নগর জোড়া পুকুর এলাকায় পৌঁছালে খর্দগাংড়া গ্রামের আবু জাফর, জয়নগর গ্রামের সমির হোসেন ও সেলিম হোসেন তাদের গতিরোধ করে।

বখাটেরা প্রথমে ছাত্রীর সহপাঠী রাফিদকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে সমির ও সেলিমের সহযোগিতায় আবু জাফর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী ক্ষেতে কর্মরত কৃষকরা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত তিনজনই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কিশোরী বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে বিস্তারিত জানালে তার ভাই বাদী হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় আবু জাফর, সমির হোসেন ও সেলিম হোসেনের নাম উল্লেখ করে মনিরামপুর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে ওই রাতেই দ্বিতীয় আসামি সমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ জানান, "মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত আবু জাফর ও অপর সহযোগী সেলিম হোসেন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।"

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


সহপাঠীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল মনিরামপুর: রাজপথে শিক্ষার্থীরা, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

যশোরের মনিরামপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

আজ সোমবার (৭ জুলাই) সকালে মনিরামপুর আদর্শ সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পৌর শহরে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এদিন সকালে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে কয়েকশ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মনিরামপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্কুলের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা 'আমার বোন ধর্ষিত কেন? প্রশাসন জবাব চাই', 'ধর্ষকের ফাঁসি চাই' এমন সব স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পড়তে যাওয়ার পথে দিনের আলোয় এমন নেক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুততম সময়ে মূল অভিযুক্তসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল ৬টার দিকে মনিরামপুর আদর্শ সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী তার সহপাঠী রাফিদকে সঙ্গে নিয়ে গণিত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস আলীর বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পথে জয়নগর জোড়া পুকুর এলাকায় পৌঁছালে খর্দগাংড়া গ্রামের আবু জাফর, জয়নগর গ্রামের সমির হোসেন ও সেলিম হোসেন তাদের গতিরোধ করে।

বখাটেরা প্রথমে ছাত্রীর সহপাঠী রাফিদকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে সমির ও সেলিমের সহযোগিতায় আবু জাফর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী ক্ষেতে কর্মরত কৃষকরা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত তিনজনই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কিশোরী বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে বিস্তারিত জানালে তার ভাই বাদী হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় আবু জাফর, সমির হোসেন ও সেলিম হোসেনের নাম উল্লেখ করে মনিরামপুর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে ওই রাতেই দ্বিতীয় আসামি সমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ জানান, "মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত আবু জাফর ও অপর সহযোগী সেলিম হোসেন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।"

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর