infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়া: কক্সবাজারে মাছ ধরা বন্ধ, দিশেহারা হাজারো জেলে

ইকবাল হোসাইন প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭ পিএম

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে কক্সবাজার উপকূল থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছে না অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার। ফলে মাছ আহরণ কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এতে জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদার, বরফকল, পরিবহন শ্রমিকসহ মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। প্রতিদিন ট্রলার ঘাটে অলস পড়ে থাকায় বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ।

কক্সবাজার ফিশারি ঘাট ও নাজিরারটেক এলাকার জেলেরা জানান, কয়েকদিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সাগরে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঝড়ো হাওয়া ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে ট্রলার নিয়ে সাগরে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জীবন ও ট্রলারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা ঘাটেই অবস্থান করছেন।

জেলে আব্দুল করিম বলেন,"আমরা প্রতিদিন সাগরে যেতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকদিন ধরে ট্রলার ঘাটে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আয় না থাকলেও নৌকার খরচ, শ্রমিকের খরচ ও অন্যান্য ব্যয় ঠিকই চলছে।"

ট্রলার মালিক মো. শাহজাহান বলেন, "একটি ট্রলার প্রতিদিন ঘাটে পড়ে থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়। ঋণের কিস্তি, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।"

কক্সবাজার ফিশারি ঘাটের এক মাছ ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,"ট্রলার সাগরে যেতে না পারায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে গেছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।"

এদিকে স্থানীয় মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু জেলেরাই নন, বরফকল, মাছ পরিবহন, আড়ত ও শ্রমিকসহ পুরো মৎস্য খাত বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দিনমজুর কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ট্রলারগুলো আবারও মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে উপকূলীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা সংকট আরও প্রকট হবে।

জেলে ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়া: কক্সবাজারে মাছ ধরা বন্ধ, দিশেহারা হাজারো জেলে

ইকবাল হোসাইন

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭ পিএম

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে কক্সবাজার উপকূল থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছে না অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার। ফলে মাছ আহরণ কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এতে জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদার, বরফকল, পরিবহন শ্রমিকসহ মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। প্রতিদিন ট্রলার ঘাটে অলস পড়ে থাকায় বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ।

কক্সবাজার ফিশারি ঘাট ও নাজিরারটেক এলাকার জেলেরা জানান, কয়েকদিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সাগরে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঝড়ো হাওয়া ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে ট্রলার নিয়ে সাগরে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জীবন ও ট্রলারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা ঘাটেই অবস্থান করছেন।

জেলে আব্দুল করিম বলেন,"আমরা প্রতিদিন সাগরে যেতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকদিন ধরে ট্রলার ঘাটে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আয় না থাকলেও নৌকার খরচ, শ্রমিকের খরচ ও অন্যান্য ব্যয় ঠিকই চলছে।"

ট্রলার মালিক মো. শাহজাহান বলেন, "একটি ট্রলার প্রতিদিন ঘাটে পড়ে থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়। ঋণের কিস্তি, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।"

কক্সবাজার ফিশারি ঘাটের এক মাছ ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,"ট্রলার সাগরে যেতে না পারায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে গেছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে মাছের দাম বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।"

এদিকে স্থানীয় মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু জেলেরাই নন, বরফকল, মাছ পরিবহন, আড়ত ও শ্রমিকসহ পুরো মৎস্য খাত বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দিনমজুর কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ট্রলারগুলো আবারও মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে উপকূলীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা সংকট আরও প্রকট হবে।

জেলে ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর