infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি: প্রাণহানি এড়াতে মাঠে প্রশাসন, নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

কক্সবাজারে কয়েক দিন ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলাজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সোমবার সকাল থেকে কক্সবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী, ঝিলংজা, লিংক রোড, সামিতিপাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ নুনিয়াছড়া এবং জেলার উখিয়া, টেকনাফ, রামু, ঈদগাঁও, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, রেড ক্রিসেন্ট এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, "টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে, যা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। আমরা কলাতলী ও ঝিলংজাসহ সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করছি। স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাউকেই পাহাড়ের পাদদেশে থাকতে দেওয়া হবে না।"

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি বা উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য তাদের বিশেষ দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অতীতের পাহাড় ধসের মর্মান্তিক স্মৃতি মনে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কলাতলী এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, "বৃষ্টির তীব্রতা দেখে খুব ভয় লাগছে। প্রশাসনের মাইকিং শুনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।" একই আতঙ্কের কথা জানান ঝিলংজার রেহেনা বেগম, "বৃষ্টি বাড়লে আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়াই এখন বুদ্ধিমানের কাজ।"

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন, তাদের জন্য সেখানে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি: প্রাণহানি এড়াতে মাঠে প্রশাসন, নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

কক্সবাজারে কয়েক দিন ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলাজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সোমবার সকাল থেকে কক্সবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী, ঝিলংজা, লিংক রোড, সামিতিপাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ নুনিয়াছড়া এবং জেলার উখিয়া, টেকনাফ, রামু, ঈদগাঁও, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, রেড ক্রিসেন্ট এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, "টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে, যা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। আমরা কলাতলী ও ঝিলংজাসহ সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করছি। স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাউকেই পাহাড়ের পাদদেশে থাকতে দেওয়া হবে না।"

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি বা উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য তাদের বিশেষ দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অতীতের পাহাড় ধসের মর্মান্তিক স্মৃতি মনে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কলাতলী এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, "বৃষ্টির তীব্রতা দেখে খুব ভয় লাগছে। প্রশাসনের মাইকিং শুনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।" একই আতঙ্কের কথা জানান ঝিলংজার রেহেনা বেগম, "বৃষ্টি বাড়লে আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়াই এখন বুদ্ধিমানের কাজ।"

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন, তাদের জন্য সেখানে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর