infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

স্থবিরতা কাটছে ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা টাওয়ার প্রকল্পের, শুরু হচ্ছে যৌথ জরিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে সচল হচ্ছে ঢাকা জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ২০ তলা আধুনিক বাণিজ্যিক ভবন (ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার) প্রকল্প। ভবনটির পূর্ববর্তী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করা অসমাপ্ত কাজের যৌথ পরিমাপ ও জরিপ কার্যক্রম আজ বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবনটির কারিগরি যাচাই ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে।

গঠিত হয়েছে যৌথ কমিটি

জেলা পরিষদের অফিস আদেশ অনুযায়ী, কাজের বর্তমান অবস্থা নিরূপণে একটি যৌথ পরিমাপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বিভূতি মোহন পাল, ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া মুমতাহিনা, সাবেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী অংশ নিয়েছেন।

আগামী কয়েক দিন এই যৌথ জরিপ কার্যক্রম চলবে। এ সময় এ পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কাজের পরিমাণ, মান, বর্তমান কাঠামোর অবস্থা এবং অসমাপ্ত কাজের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করা হবে। এলজিইডির কারিগরি দল বর্তমান ভবনটির অবস্থা মূল্যায়ন করে একটি কারিগরি প্রত্যয়নপত্র দেবে। প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর পর প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) মেনে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

উত্তরা থেকে আবার ফিরবে নিজস্ব কার্যালয়

জানতে চাইলে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, "ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার শুধু একটি ভবন নয়, এটি আমাদের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা প্রকল্পটি সচল করতে বর্তমান প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। দ্রুত যৌথ জরিপ ও কারিগরি যাচাই শেষ করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে বাকি কাজ শেষ করা হবে।"

জেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুইটি বেজমেন্টসহ ২০ তলার এই ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে প্রায় ১৫ হাজার বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য বাণিজ্যিক স্পেস ও একটি আধুনিক মিলনায়তন (অডিটরিয়াম) রয়েছে। বর্তমানে জেলা পরিষদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে উত্তরা সেক্টর-৬ থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা সেবাগ্রহীতাদের জন্য বেশ অসুবিধাজনক। ভবনটির কাজ শেষ হলে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে জেলা পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় এখানে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ছাড়া বাকি বাণিজ্যিক স্পেসগুলো ধাপে ধাপে ইজারা (লিজ) দেওয়া হবে। বাকি নির্মাণকাজে অগ্নিনিরাপত্তা (ফায়ার সেফটি), ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানান প্রশাসক।

‘বছরের পর বছর অচল ছিল বিশাল সম্পদ’

সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মো. বদরুদ্দোজা শুভ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে ঢাকায় কর্মরত থাকার সময় প্রতিদিন এই ভবনের সামনে দিয়ে যাতায়াত করেছি। বিশাল এই সরকারি সম্পদ বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকতে দেখে খারাপ লাগত। আজ সরাসরি এই প্রকল্প সচল করার দায়িত্ব পেয়ে একে নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি।"

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, সব ধরনের কারিগরি ও আইনি মানদণ্ড মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবনটির বাকি কাজ শেষ করা হবে। ভবনের বাণিজ্যিক স্পেস ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে হবে, যাতে কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

এক যুগ আগের প্রকল্প

জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ২০১২ সালে নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করেছিল ঢাকা জেলা পরিষদ। তবে প্রশাসনিক ও ঠিকাদারি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন এর নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটিকে দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেয়। জেলা পরিষদ আশা করছে, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে পুরান ঢাকার আদালত এলাকায় এটি একটি আধুনিক ও নিরাপদ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


স্থবিরতা কাটছে ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা টাওয়ার প্রকল্পের, শুরু হচ্ছে যৌথ জরিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে সচল হচ্ছে ঢাকা জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ২০ তলা আধুনিক বাণিজ্যিক ভবন (ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার) প্রকল্প। ভবনটির পূর্ববর্তী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করা অসমাপ্ত কাজের যৌথ পরিমাপ ও জরিপ কার্যক্রম আজ বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবনটির কারিগরি যাচাই ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে।

গঠিত হয়েছে যৌথ কমিটি

জেলা পরিষদের অফিস আদেশ অনুযায়ী, কাজের বর্তমান অবস্থা নিরূপণে একটি যৌথ পরিমাপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বিভূতি মোহন পাল, ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া মুমতাহিনা, সাবেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী অংশ নিয়েছেন।

আগামী কয়েক দিন এই যৌথ জরিপ কার্যক্রম চলবে। এ সময় এ পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কাজের পরিমাণ, মান, বর্তমান কাঠামোর অবস্থা এবং অসমাপ্ত কাজের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করা হবে। এলজিইডির কারিগরি দল বর্তমান ভবনটির অবস্থা মূল্যায়ন করে একটি কারিগরি প্রত্যয়নপত্র দেবে। প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর পর প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) মেনে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

উত্তরা থেকে আবার ফিরবে নিজস্ব কার্যালয়

জানতে চাইলে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, "ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার শুধু একটি ভবন নয়, এটি আমাদের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা প্রকল্পটি সচল করতে বর্তমান প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। দ্রুত যৌথ জরিপ ও কারিগরি যাচাই শেষ করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে বাকি কাজ শেষ করা হবে।"

জেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুইটি বেজমেন্টসহ ২০ তলার এই ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে প্রায় ১৫ হাজার বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য বাণিজ্যিক স্পেস ও একটি আধুনিক মিলনায়তন (অডিটরিয়াম) রয়েছে। বর্তমানে জেলা পরিষদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে উত্তরা সেক্টর-৬ থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা সেবাগ্রহীতাদের জন্য বেশ অসুবিধাজনক। ভবনটির কাজ শেষ হলে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে জেলা পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় এখানে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ছাড়া বাকি বাণিজ্যিক স্পেসগুলো ধাপে ধাপে ইজারা (লিজ) দেওয়া হবে। বাকি নির্মাণকাজে অগ্নিনিরাপত্তা (ফায়ার সেফটি), ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানান প্রশাসক।

‘বছরের পর বছর অচল ছিল বিশাল সম্পদ’

সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মো. বদরুদ্দোজা শুভ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে ঢাকায় কর্মরত থাকার সময় প্রতিদিন এই ভবনের সামনে দিয়ে যাতায়াত করেছি। বিশাল এই সরকারি সম্পদ বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকতে দেখে খারাপ লাগত। আজ সরাসরি এই প্রকল্প সচল করার দায়িত্ব পেয়ে একে নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি।"

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, সব ধরনের কারিগরি ও আইনি মানদণ্ড মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবনটির বাকি কাজ শেষ করা হবে। ভবনের বাণিজ্যিক স্পেস ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে হবে, যাতে কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

এক যুগ আগের প্রকল্প

জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ২০১২ সালে নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করেছিল ঢাকা জেলা পরিষদ। তবে প্রশাসনিক ও ঠিকাদারি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন এর নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটিকে দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেয়। জেলা পরিষদ আশা করছে, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে পুরান ঢাকার আদালত এলাকায় এটি একটি আধুনিক ও নিরাপদ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর