infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ২, চাচি পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাসের এক দুগ্ধপোষ্য নবজাতকের পা নির্মমভাবে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় শিশুটির মা-বাবার কোনো অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় শিশু আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ শিশুটির আপন চাচা কাউছার আহম্মেদ ও দাদা আলমাছ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল হোতা ও ভিডিওতে দৃশ্যমান পা মুচড়ে দেওয়া আপন চাচি লতা বেগম (৩২) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার জহিরুল ইসলাম ও সাইফা আক্তার দম্পতির তিন মাসের শিশু সন্তান রিজিক। জন্মের পর থেকেই রিজিক অসুস্থ থাকায় তার মা পারিবারিক কাজে ঠিকমতো অংশ নিতে পারতেন না। এই নিয়ে যৌথ পরিবারের জা ও শিশুটির চাচি লতা বেগমের সাথে সাইফা আক্তারের প্রায়ই কথা কাটাকাটি চলত।

গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে শিশু রিজিককে নিয়ে তার মা ঘরে শুয়ে ছিলেন। তিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় পারিবারিক সন্দেহের বশে কৌশলে নিজের মোবাইলের ভিডিও ক্যামেরা চালু করে রেখে যান। তিনি চলে যাওয়ার পরপরই চাচি লতা বেগম ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটির পা নিষ্ঠুরভাবে মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। সাইফা আক্তার ওয়াশরুম থেকে ফিরে ভিডিওটি দেখে আঁতকে ওঠেন। তবে পারিবারিক লোকলজ্জা ও চাপের কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির দাদা ও চাচা ওই ভিডিওটি মোবাইল থেকে ডিলিট করে দেন এবং লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। কিন্তু তার আগেই শিশুর মা ভিডিওটি কৌশলে তার ভাইয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা সাইফা আক্তার জানান, এটি তাদের সম্পূর্ণ পারিবারিক বিষয় এবং ৩ দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। তারা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে রাজি হননি এবং ফেসবুকে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ফেসবুকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। যদিও মা-বাবার বক্তব্য ও ভাইরাল হওয়া তথ্যের মধ্যে অমিল রয়েছে এবং শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তবুও বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা বাদী হয়ে ২০১৩ সালের শিশু আইনে মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বাদী সমাজসেবা কর্মকর্তা রিজা আক্তার বলেন, সব বিষয় পারিবারিকভাবে নিষ্পত্তি হয় না। শিশু নির্যাতনের এই ভিডিওটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নিষ্ঠুর। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবার পরিদর্শন করে আজ মামলাটি দায়ের করেছি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ২, চাচি পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাসের এক দুগ্ধপোষ্য নবজাতকের পা নির্মমভাবে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় শিশুটির মা-বাবার কোনো অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় শিশু আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ শিশুটির আপন চাচা কাউছার আহম্মেদ ও দাদা আলমাছ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল হোতা ও ভিডিওতে দৃশ্যমান পা মুচড়ে দেওয়া আপন চাচি লতা বেগম (৩২) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার জহিরুল ইসলাম ও সাইফা আক্তার দম্পতির তিন মাসের শিশু সন্তান রিজিক। জন্মের পর থেকেই রিজিক অসুস্থ থাকায় তার মা পারিবারিক কাজে ঠিকমতো অংশ নিতে পারতেন না। এই নিয়ে যৌথ পরিবারের জা ও শিশুটির চাচি লতা বেগমের সাথে সাইফা আক্তারের প্রায়ই কথা কাটাকাটি চলত।

গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে শিশু রিজিককে নিয়ে তার মা ঘরে শুয়ে ছিলেন। তিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় পারিবারিক সন্দেহের বশে কৌশলে নিজের মোবাইলের ভিডিও ক্যামেরা চালু করে রেখে যান। তিনি চলে যাওয়ার পরপরই চাচি লতা বেগম ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটির পা নিষ্ঠুরভাবে মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। সাইফা আক্তার ওয়াশরুম থেকে ফিরে ভিডিওটি দেখে আঁতকে ওঠেন। তবে পারিবারিক লোকলজ্জা ও চাপের কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির দাদা ও চাচা ওই ভিডিওটি মোবাইল থেকে ডিলিট করে দেন এবং লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। কিন্তু তার আগেই শিশুর মা ভিডিওটি কৌশলে তার ভাইয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা সাইফা আক্তার জানান, এটি তাদের সম্পূর্ণ পারিবারিক বিষয় এবং ৩ দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। তারা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে রাজি হননি এবং ফেসবুকে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ফেসবুকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। যদিও মা-বাবার বক্তব্য ও ভাইরাল হওয়া তথ্যের মধ্যে অমিল রয়েছে এবং শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তবুও বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা বাদী হয়ে ২০১৩ সালের শিশু আইনে মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বাদী সমাজসেবা কর্মকর্তা রিজা আক্তার বলেন, সব বিষয় পারিবারিকভাবে নিষ্পত্তি হয় না। শিশু নির্যাতনের এই ভিডিওটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নিষ্ঠুর। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবার পরিদর্শন করে আজ মামলাটি দায়ের করেছি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর