infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

টানা ১১ বার: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা নাঈমকে এবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাঈমকে আরও একটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির এই নেতাকে টানা ১১ বারের মতো আলাদা আলাদা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ধানমন্ডি মডেল থানার একটি মামলায় নাঈম ও নিষিদ্ধ সংগঠনটির আরেক নেতা বেলাল হোসাইনকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। বেলাল হোসাইন সিরাজগঞ্জের ১২ নম্বর মুন্সুর নগর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

আদালত ও মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, ধানমন্ডি থানার একটি মামলায় (মামলা নম্বর: ১০, তারিখ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারিকুল ইসলাম। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারাসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি আদালতে বলেন, আনোয়ার হোসেন নাঈম এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক হয়রানি ও কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে একের পর এক নতুন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে তাঁকে টানা ১১টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, যার প্রতিটি মামলার অভিযোগের ধরন প্রায় একই রকম। তিনি এ ধরনের পর পর মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে রিমান্ড আবেদন বাতিল ও আসামির জামিন মঞ্জুরের দাবি জানান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে ল্যাবএইড হাসপাতালের বিপরীত পাশে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। ওই হামলায় মামলার বাদী মো. সজিব ইসলাম (৩২) পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় পরে ধানমন্ডি থানায় মামলা করা হয়। মামলার প্রাথমিক তদন্তে ছাত্রলীগের এই দুই নেতার জড়িত থাকার সপক্ষে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আনোয়ার হোসেন নাঈমকে প্রথম গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই বছরের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জিয়াউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীর করা হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা ৩৯১ জনের ওই মামলায় নাঈম ৩৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। পরে আদালত তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।

সে সময় তাঁর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই নাঈম ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় পর্যায়ক্রমিক গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) প্রক্রিয়ার মধ্যে কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবির মুখে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


টানা ১১ বার: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা নাঈমকে এবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাঈমকে আরও একটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির এই নেতাকে টানা ১১ বারের মতো আলাদা আলাদা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ধানমন্ডি মডেল থানার একটি মামলায় নাঈম ও নিষিদ্ধ সংগঠনটির আরেক নেতা বেলাল হোসাইনকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। বেলাল হোসাইন সিরাজগঞ্জের ১২ নম্বর মুন্সুর নগর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

আদালত ও মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, ধানমন্ডি থানার একটি মামলায় (মামলা নম্বর: ১০, তারিখ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারিকুল ইসলাম। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারাসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি আদালতে বলেন, আনোয়ার হোসেন নাঈম এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক হয়রানি ও কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে একের পর এক নতুন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে তাঁকে টানা ১১টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, যার প্রতিটি মামলার অভিযোগের ধরন প্রায় একই রকম। তিনি এ ধরনের পর পর মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে রিমান্ড আবেদন বাতিল ও আসামির জামিন মঞ্জুরের দাবি জানান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে ল্যাবএইড হাসপাতালের বিপরীত পাশে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। ওই হামলায় মামলার বাদী মো. সজিব ইসলাম (৩২) পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় পরে ধানমন্ডি থানায় মামলা করা হয়। মামলার প্রাথমিক তদন্তে ছাত্রলীগের এই দুই নেতার জড়িত থাকার সপক্ষে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আনোয়ার হোসেন নাঈমকে প্রথম গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই বছরের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জিয়াউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীর করা হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা ৩৯১ জনের ওই মামলায় নাঈম ৩৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। পরে আদালত তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।

সে সময় তাঁর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই নাঈম ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় পর্যায়ক্রমিক গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) প্রক্রিয়ার মধ্যে কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবির মুখে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর