কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগ, উচ্ছেদে গিয়ে বাধার মুখে বনবিভাগ
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশীদনগর ইউনিয়নের কদমর পাড়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন মেহেরঘোনা রেঞ্জের কয়েক হেক্টর বনভূমিতে একের পর এক স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বনবিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই দখলদারিত্ব চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মারুফ হোসেন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এরপর মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে অভিযান পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কদমর পাড়া এলাকায় বদিউল আলম, শামসুল আলমসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কালিরছড়া বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় হেডম্যানকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা অবৈধভাবে বনভূমি দখলের সুযোগ করে দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে।
উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, অভিযানে একটি অবৈধ স্থাপনার অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বনবিভাগের দল এলাকা ত্যাগ করার পর দখলদাররা ভাঙা অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে নেয়।
এদিকে বনভূমি দখলে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালিরছড়া বিট কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, বনভূমি বিক্রি বা দখলের বিনিময়ে তিনি কোনো অর্থ নেননি। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্থানীয় হেডম্যান হাফেজ আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বনভূমি ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, বন ও পরিবেশ রক্ষায় যখন বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে, তখন কিছু অসাধু ব্যক্তি ও কর্মকর্তার কারণে সংরক্ষিত বনভূমি হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি দ্রুত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত উচ্ছেদ অভিযান এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মারুফ হোসেন বলেন, সরকারি বনভূমি দখলকারী যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কদমর পাড়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল মেহেরঘোনা রেঞ্জ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অব্যাহত দখলদারিত্ব ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে এই বনাঞ্চল এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। দ্রুত কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান এবং আইন প্রয়োগ না হলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক বনভূমির বড় অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: