১২৯তম বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্ধারিত দিনেও আদালতে দাখিল করা হয়নি। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়মীমা বাড়িয়েছে আদালত। এ নিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৯তম বারের মতো পিছিয়ে গেল।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় অভিযুক্ত আটজন হলেন—রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং রুনির বন্ধু তানভীর রহমান খান। এর মধ্যে তানভীর রহমান খান জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পালও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। চার দিন পর তদন্তভার যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর কাছে। তবে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ডিবি হত্যার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘ সময় র্যাবের তদন্তেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে। বর্তমানে এই টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্ত করছে। তবে টাস্কফোর্স গঠনের পরও তদন্ত শেষ না হওয়ায় মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: