infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে শরিকদের ক্ষোভ

‘সরকারের সিদ্ধান্তে আমাদের অংশগ্রহণ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম

সরকার গঠনের প্রায় পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে অংশ নেন গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলামী ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের শতাধিক নেতা।

বৈঠকে শরিক দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় বিএনপি তাদের যথাযথ গুরুত্ব দিলেও সরকার গঠনের পর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শরিকদের কোনো অংশগ্রহণ নেই।

বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে শরিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) অংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থসহ কয়েকজন নেতা। সবশেষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে শরিকদের অবমূল্যায়নের বিষয়টি। শরিক নেতারা বলেন, আগে বিএনপির একটি লিয়াজোঁ কমিটি নিয়মিত শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং রাজনৈতিক সমন্বয় করত। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আন্দোলনের সময় শরিকরা নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। কিন্তু এখন তারা নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শরিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও তাদের মতামত নেওয়া হয় না।

একই ধরনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকার গঠনের পর সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমনকি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নেও শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।

বৈঠকে শরিক নেতারা আরও বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয় জরুরি। অন্যথায় রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

এক পর্যায়ে রসিকতার সুরে কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তোলেন, "এটা কি আমাদের ফেয়ারওয়েল নৈশভোজ?" জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "না, এটা ওয়েলকাম ডিনার।"

শরিকদের অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় এতদিন বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সরকার পরিচালনা করা হবে এবং শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে এই বৈঠক ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমন্বয় ও জোট রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তবে শরিকদের অভিযোগের বাস্তব প্রতিফলন কতটা ঘটবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে শরিকদের ক্ষোভ

‘সরকারের সিদ্ধান্তে আমাদের অংশগ্রহণ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম

সরকার গঠনের প্রায় পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে অংশ নেন গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলামী ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের শতাধিক নেতা।

বৈঠকে শরিক দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় বিএনপি তাদের যথাযথ গুরুত্ব দিলেও সরকার গঠনের পর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শরিকদের কোনো অংশগ্রহণ নেই।

বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে শরিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) অংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থসহ কয়েকজন নেতা। সবশেষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে শরিকদের অবমূল্যায়নের বিষয়টি। শরিক নেতারা বলেন, আগে বিএনপির একটি লিয়াজোঁ কমিটি নিয়মিত শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং রাজনৈতিক সমন্বয় করত। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আন্দোলনের সময় শরিকরা নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। কিন্তু এখন তারা নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শরিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও তাদের মতামত নেওয়া হয় না।

একই ধরনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকার গঠনের পর সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমনকি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নেও শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।

বৈঠকে শরিক নেতারা আরও বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয় জরুরি। অন্যথায় রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

এক পর্যায়ে রসিকতার সুরে কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তোলেন, "এটা কি আমাদের ফেয়ারওয়েল নৈশভোজ?" জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "না, এটা ওয়েলকাম ডিনার।"

শরিকদের অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় এতদিন বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সরকার পরিচালনা করা হবে এবং শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে এই বৈঠক ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমন্বয় ও জোট রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তবে শরিকদের অভিযোগের বাস্তব প্রতিফলন কতটা ঘটবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর