infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন

প্রকাশিত: ০৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

সোমবার (৩ আগস্ট) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির । ছবি: সংগৃহীত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সই করা এক চিঠিতে তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে ক্যাম্পাসে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ নিষিদ্ধসহ সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানান, বেলা ১টা থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর শিকার কয়েকজন নেতার ছবি নিয়ে আপত্তি তোলে ছাত্রদল। তারা এই ছবি অপসারণের দাবি জানালে ছাত্রশিবির তা প্রত্যাখ্যান করলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া, ইট-পাটকেল ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং লাঠিসোঁটার মারামারিতে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংঘর্ষের জেরে মঙ্গলবার একই স্থানে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় উভয় সংগঠন। রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৫টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল সাড়ে ৫টায় লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়। একই স্থানে দুই সংগঠনের মুখোমুখি কর্মসূচি পুনরায় সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি করায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিঠি পেয়েছেন এবং বিষয়টি পুলিশ কমিশনারকে জানানো হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত দেয়নি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন


প্রকাশিত: ০৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

সোমবার (৩ আগস্ট) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির । ছবি: সংগৃহীত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সই করা এক চিঠিতে তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে ক্যাম্পাসে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ নিষিদ্ধসহ সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানান, বেলা ১টা থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর শিকার কয়েকজন নেতার ছবি নিয়ে আপত্তি তোলে ছাত্রদল। তারা এই ছবি অপসারণের দাবি জানালে ছাত্রশিবির তা প্রত্যাখ্যান করলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া, ইট-পাটকেল ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং লাঠিসোঁটার মারামারিতে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংঘর্ষের জেরে মঙ্গলবার একই স্থানে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় উভয় সংগঠন। রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৫টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল সাড়ে ৫টায় লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়। একই স্থানে দুই সংগঠনের মুখোমুখি কর্মসূচি পুনরায় সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি করায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিঠি পেয়েছেন এবং বিষয়টি পুলিশ কমিশনারকে জানানো হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত দেয়নি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর