বিপৎসীমার ওপরে সুরমার পানি, দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কা
টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার ছাতক পয়েন্টে নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী দুই দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ৭.৫৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ছাতক পয়েন্টে পানি ১৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৮.৭০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ সীমান্তবর্তী কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই উপজেলার মার্কুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার কমলেও এখনও বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৭.১৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) সুনামগঞ্জে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ছাতকে ১২৫ মিলিমিটার এবং তাহিরপুরে ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আগামী দুই দিন সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই দিনও সুনামগঞ্জ ও মেঘালয় এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। যদিও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমেছে, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, জেলার **১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র** প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য **৪৯২টি নৌযান**, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং **১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম** প্রস্তুত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: