infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরানোর দাবি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ২০:০৮ পিএম

সাতক্ষীরা শহরের বহুল পরিচিত নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের তহবিলে প্রায় এক কোটি টাকা জমা হওয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজীকে ঘিরে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। পরিচালনা কমিটি গঠন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং বিদ্যালয়ের তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজন জানিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সমর্থকদের দাবি, বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালে আব্দুল মালেক গাজী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ ছিল না।যেগুলো ছিল সেগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী। শিক্ষকদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও ছিল না। বিজ্ঞানাগারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব ছিল বিদ্যালয়টিতে।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যালয়ের তহবিলে ছিল মাত্র ২১ হাজার টাকা। বিভিন্ন খাতে বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ টাকা দেনা ছিল। গত ১২ বছরে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের ২৯টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ও অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের তহবিলে বর্তমানে প্রায় এক কোটি টাকা রয়েছে এবং কোনো ঋণ নেই বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

আব্দুল মালেক গাজী বলেন, ‘৪৫ বছরের পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানের তহবিলে যখন মাত্র ২১ হাজার টাকা ছিল, সেখান থেকে ১২ বছরে প্রায় এক কোটি টাকা হয়েছে। অথচ এই অর্থই এখন আমার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক হিসেবে আব্দুল মালেক গাজী দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ২১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে -জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আগের কয়েক বছরের তুলনায় আশানুরূপ হয়নি। পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজী বলেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।তাঁকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাঁর ধারণা, বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হওয়া বড় অঙ্কের অর্থ এবং সেই অর্থ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করেই বর্তমান বিরোধের সূত্রপাত। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা নিয়ে নানা ধরনের তৎপরতা চলছে। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক বলেন, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিরোধের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সদস্য হিমুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। তবে বর্তমানে কিছু বিষয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে এসব সমস্যার সমাধান করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি। সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানের পরিবর্তন হয়েছে। খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিদ্যালয়টি পুরস্কারও পেয়েছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের কেউ কেউ নিয়মিত ক্লাস নেন না এবং যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরিচালনা কমিটি তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একজন অভিভাবক বলেন, তাঁর দুই মেয়ে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তাঁর ভাষ্য, আব্দুল মালেক গাজী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। এখন কোনো বিরোধের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

কোনো শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক বা পরিচালনা কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে সমাধান করা উচিত। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ের তহবিলে থাকা প্রায় এক কোটি টাকা, পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম এবং প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


সাতক্ষীরায় নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরানোর দাবি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ২০:০৮ পিএম

সাতক্ষীরা শহরের বহুল পরিচিত নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের তহবিলে প্রায় এক কোটি টাকা জমা হওয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজীকে ঘিরে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। পরিচালনা কমিটি গঠন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং বিদ্যালয়ের তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজন জানিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সমর্থকদের দাবি, বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালে আব্দুল মালেক গাজী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ ছিল না।যেগুলো ছিল সেগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী। শিক্ষকদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও ছিল না। বিজ্ঞানাগারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব ছিল বিদ্যালয়টিতে।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যালয়ের তহবিলে ছিল মাত্র ২১ হাজার টাকা। বিভিন্ন খাতে বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ টাকা দেনা ছিল। গত ১২ বছরে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের ২৯টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ও অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের তহবিলে বর্তমানে প্রায় এক কোটি টাকা রয়েছে এবং কোনো ঋণ নেই বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

আব্দুল মালেক গাজী বলেন, ‘৪৫ বছরের পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানের তহবিলে যখন মাত্র ২১ হাজার টাকা ছিল, সেখান থেকে ১২ বছরে প্রায় এক কোটি টাকা হয়েছে। অথচ এই অর্থই এখন আমার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক হিসেবে আব্দুল মালেক গাজী দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ২১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে -জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আগের কয়েক বছরের তুলনায় আশানুরূপ হয়নি। পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজী বলেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।তাঁকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাঁর ধারণা, বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হওয়া বড় অঙ্কের অর্থ এবং সেই অর্থ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করেই বর্তমান বিরোধের সূত্রপাত। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা নিয়ে নানা ধরনের তৎপরতা চলছে। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক বলেন, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিরোধের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সদস্য হিমুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। তবে বর্তমানে কিছু বিষয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে এসব সমস্যার সমাধান করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি। সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানের পরিবর্তন হয়েছে। খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিদ্যালয়টি পুরস্কারও পেয়েছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের কেউ কেউ নিয়মিত ক্লাস নেন না এবং যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরিচালনা কমিটি তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একজন অভিভাবক বলেন, তাঁর দুই মেয়ে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তাঁর ভাষ্য, আব্দুল মালেক গাজী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। এখন কোনো বিরোধের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

কোনো শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক বা পরিচালনা কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে সমাধান করা উচিত। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ের তহবিলে থাকা প্রায় এক কোটি টাকা, পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম এবং প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর