infoamaderdin@gmail.com রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ থেকে ২ হাজার ব্লক লুট, আতঙ্কে কৃষক; ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৬ ১১:০৮ এএম

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওরের চরহাইজদায় ফসলরক্ষার জন্য নির্মিত স্থায়ী বাঁধ থেকে দুই হাজারের বেশি কংক্রিটের ব্লক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৮ আগস্ট রাত থেকে গাগলাজুর ইউনিয়নের করাচাপুর গ্রামের সামনে বাঁধের বিভিন্ন অংশ থেকে রাতের আঁধারে এসব ব্লক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একাধিকবার প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও লুটপাট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বাঁধের ব্লক সরিয়ে নেওয়ায় আগামী বোরো মৌসুমে হাওরের ফসল নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়লে সামান্য বন্যা বা পানির চাপেই ভেঙে যেতে পারে ফসলরক্ষা বাঁধ। এতে ডিঙাপোতা হাওরের বিপুল পরিমাণ বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট মোহনগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ডিঙাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কংক্রিটের ব্লক দিয়ে স্থায়ী ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধটি হাওরের কৃষকদের বোরো ফসল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৮ আগস্ট রাতে বাঁধ থেকে দুই হাজারের বেশি কংক্রিটের ব্লক তুলে নেওয়া হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও রাতের আঁধারে বাঁধ থেকে ব্লক সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে দুর্বৃত্তরা বাঁধটির কয়েকটি অংশ কেটে দিয়েছিল। তখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক ব্লক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বরান্তর গ্রামের বাসিন্দা বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, ১৮ আগস্ট রাতে তিনি দেখতে পান পাশের ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি নৌকায় করে বাঁধের ব্লক তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাধা দিলে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তাঁর অভিযোগ, এর জেরে পরদিন রাতে তাঁর মাছের আড়তে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গাগলাজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের লোকজন রাতের আঁধারে বাঁধের ব্লক নিয়ে গেছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁদের বাড়িতে এসব ব্লক পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্লক নেওয়া বন্ধ হয়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ব্লকগুলো ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

বরান্তর গ্রামের কৃষক তানিম খান আদনান বলেন, ১৮ আগস্ট রাত থেকে প্রায় প্রতিদিনই বাঁধের ব্লক তুলে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং থানায় জিডিও করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এভাবে ব্লক তুলে নেওয়া হলে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

একই গ্রামের যুবক বায়েজিদ হোসেন বলেন, বাঁধ থেকে ব্লক সরিয়ে নেওয়া হলে সামান্য বন্যাতেই বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এতে হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গিয়ে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি ব্লক লুটের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে লুট হওয়া ব্লকগুলো আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যারা ব্লক নিয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ব্লকগুলো আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্লক লুটের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা পাউবোর কর্মকর্তা থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে ব্লকগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

দুই হাজারের বেশি কংক্রিটের ব্লক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বাঁধটির স্থায়িত্ব। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্লকগুলো আগের অবস্থানে ফিরিয়ে না দিলে এবং বাঁধের দুর্বল অংশগুলো মেরামত না করা হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে ডিঙাপোতা হাওরের ফসল বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ থেকে ২ হাজার ব্লক লুট, আতঙ্কে কৃষক; ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৬ ১১:০৮ এএম

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওরের চরহাইজদায় ফসলরক্ষার জন্য নির্মিত স্থায়ী বাঁধ থেকে দুই হাজারের বেশি কংক্রিটের ব্লক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৮ আগস্ট রাত থেকে গাগলাজুর ইউনিয়নের করাচাপুর গ্রামের সামনে বাঁধের বিভিন্ন অংশ থেকে রাতের আঁধারে এসব ব্লক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একাধিকবার প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও লুটপাট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বাঁধের ব্লক সরিয়ে নেওয়ায় আগামী বোরো মৌসুমে হাওরের ফসল নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়লে সামান্য বন্যা বা পানির চাপেই ভেঙে যেতে পারে ফসলরক্ষা বাঁধ। এতে ডিঙাপোতা হাওরের বিপুল পরিমাণ বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট মোহনগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ডিঙাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কংক্রিটের ব্লক দিয়ে স্থায়ী ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধটি হাওরের কৃষকদের বোরো ফসল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৮ আগস্ট রাতে বাঁধ থেকে দুই হাজারের বেশি কংক্রিটের ব্লক তুলে নেওয়া হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও রাতের আঁধারে বাঁধ থেকে ব্লক সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে দুর্বৃত্তরা বাঁধটির কয়েকটি অংশ কেটে দিয়েছিল। তখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক ব্লক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বরান্তর গ্রামের বাসিন্দা বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, ১৮ আগস্ট রাতে তিনি দেখতে পান পাশের ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি নৌকায় করে বাঁধের ব্লক তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাধা দিলে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তাঁর অভিযোগ, এর জেরে পরদিন রাতে তাঁর মাছের আড়তে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গাগলাজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের লোকজন রাতের আঁধারে বাঁধের ব্লক নিয়ে গেছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁদের বাড়িতে এসব ব্লক পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্লক নেওয়া বন্ধ হয়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ব্লকগুলো ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

বরান্তর গ্রামের কৃষক তানিম খান আদনান বলেন, ১৮ আগস্ট রাত থেকে প্রায় প্রতিদিনই বাঁধের ব্লক তুলে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং থানায় জিডিও করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এভাবে ব্লক তুলে নেওয়া হলে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

একই গ্রামের যুবক বায়েজিদ হোসেন বলেন, বাঁধ থেকে ব্লক সরিয়ে নেওয়া হলে সামান্য বন্যাতেই বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এতে হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গিয়ে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি ব্লক লুটের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে লুট হওয়া ব্লকগুলো আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যারা ব্লক নিয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ব্লকগুলো আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্লক লুটের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা পাউবোর কর্মকর্তা থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে ব্লকগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

দুই হাজারের বেশি কংক্রিটের ব্লক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বাঁধটির স্থায়িত্ব। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্লকগুলো আগের অবস্থানে ফিরিয়ে না দিলে এবং বাঁধের দুর্বল অংশগুলো মেরামত না করা হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে ডিঙাপোতা হাওরের ফসল বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর