infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফেরার রায় বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

সংবিধানের বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে পুনর্বহাল হলো গণভোট এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জানিয়েছেন আইনজীবীরা।।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
 
এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
 
এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল শুনানির অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া আপিল আবেদনটি দায়ের করেন। এতে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছিল।
 
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধানও পুনর্বহাল করা হয়। তবে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করেননি।
 
রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই এ গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। আদালতের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
 
হাইকোর্ট আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
 
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করেন। আদালতের মতে, এসব ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তথা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
 
এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে গণভোট বাতিলসংক্রান্ত ৪৭ ধারা বাতিল করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আগের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
 
তবে আদালত স্পষ্ট করেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়নি। সংশোধনীর অন্যান্য বিধান ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে।
 
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া, জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত করাসহ সংবিধানের বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


সংবিধানে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফেরার রায় বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

সংবিধানের বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে পুনর্বহাল হলো গণভোট এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জানিয়েছেন আইনজীবীরা।।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
 
এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
 
এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল শুনানির অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া আপিল আবেদনটি দায়ের করেন। এতে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছিল।
 
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধানও পুনর্বহাল করা হয়। তবে আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করেননি।
 
রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই এ গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। আদালতের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
 
হাইকোর্ট আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
 
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করেন। আদালতের মতে, এসব ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তথা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
 
এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে গণভোট বাতিলসংক্রান্ত ৪৭ ধারা বাতিল করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আগের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
 
তবে আদালত স্পষ্ট করেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়নি। সংশোধনীর অন্যান্য বিধান ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে।
 
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া, জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত করাসহ সংবিধানের বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর