মায়ের অনুপস্থিতিতেই নবজাতকের দাফন; বিলের জন্য ল্যাম্ব হাসপাতালে ‘বন্দি’ মা!
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় সদ্য সন্তান হারানো এক প্রসূতিকে হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার ল্যাম্ব হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর মাঝাপাড়া গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছয় দিন বয়সী অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে গত বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হন ওই মা। হাসপাতালের নারী ও শিশু ওয়ার্ডে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে শিশুটি মারা যায়।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা বিল পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি মাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। তবে নবজাতকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফলে মায়ের অনুপস্থিতিতেই শিশুটির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সময়ে কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে ইউএনও তাদের সেখানে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি দ্রুত দেখছেন।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১ ঘণ্টার মধ্যে প্রসূতি মাকে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ইউএনও। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনা খরচে অথবা বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সদ্য সন্তানহারানো এক মাকে চিকিৎসা বিলের কারণে আটকে রাখা মানবিকতার পরিপন্থী। বিষয়টি জানার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ল্যাম্ব হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইমন বলেন, রোগীকে আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিল পরিশোধে সহায়তার আশ্বাস পাওয়ার পর রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
তবে রোগীর স্বজনরা দাবি করেছেন, চিকিৎসা বিল পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত প্রসূতি মাকে হাসপাতাল ছাড়তে দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: