infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

কৃষকের হক মারলেন কৃষি কর্মকর্তা: সহায়তার তালিকায় স্ত্রীসহ ১৫ স্বজনের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তার তালিকায় ভাগ বসিয়েছেন খোদ এক কৃষি কর্মকর্তা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলমের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ও অন্তত ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুন হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য দুই কিস্তির টাকা ও চাল বিতরণ করা হয়। এর আওতায় প্রত্যেক সুবিধাভোগী ৬ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি করে চাল পান। পোগলা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলম ওই ইউনিয়নের তালিকা প্রণয়নের সময় অনিয়মের আশ্রয় নেন।

তদন্তে দেখা যায়, তালিকায় শাহিনুর আলমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের নাম রয়েছে। পরিচয় গোপন করতে সেখানে স্বামীর নামের পরিবর্তে তার বাবার নাম (আবু সিদ্দিক) ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া তালিকায় শাহিনুর আলমের বড় ভাই রফিকুল আলমের স্ত্রী তৌহিদা খাতুনসহ তার অন্তত ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের নাম পাওয়া গেছে।

গত ৪ জুলাই পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সার, বীজ ও বিভিন্ন প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের হাতে না পৌঁছে এই কর্মকর্তার স্বজনপ্রীতির কারণে বারবার বেহাত হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শাহিনুর আলম একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে নিজের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নাম যেভাবে তালিকায় ঢুকিয়েছেন, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তালিকায় শাহিনুর আলমের স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ওই নামটি বাদ দিয়ে সেখানে একজন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বর্তমানে লেংগুরা ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে।’

কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাই যেন সরকারি সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।’

পোগলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন যে, অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালিকায় এই নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কেবল বদলি নয়, বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এই অসাধু কর্মকর্তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


কৃষকের হক মারলেন কৃষি কর্মকর্তা: সহায়তার তালিকায় স্ত্রীসহ ১৫ স্বজনের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তার তালিকায় ভাগ বসিয়েছেন খোদ এক কৃষি কর্মকর্তা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলমের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ও অন্তত ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুন হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য দুই কিস্তির টাকা ও চাল বিতরণ করা হয়। এর আওতায় প্রত্যেক সুবিধাভোগী ৬ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি করে চাল পান। পোগলা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলম ওই ইউনিয়নের তালিকা প্রণয়নের সময় অনিয়মের আশ্রয় নেন।

তদন্তে দেখা যায়, তালিকায় শাহিনুর আলমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের নাম রয়েছে। পরিচয় গোপন করতে সেখানে স্বামীর নামের পরিবর্তে তার বাবার নাম (আবু সিদ্দিক) ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া তালিকায় শাহিনুর আলমের বড় ভাই রফিকুল আলমের স্ত্রী তৌহিদা খাতুনসহ তার অন্তত ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের নাম পাওয়া গেছে।

গত ৪ জুলাই পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সার, বীজ ও বিভিন্ন প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের হাতে না পৌঁছে এই কর্মকর্তার স্বজনপ্রীতির কারণে বারবার বেহাত হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শাহিনুর আলম একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে নিজের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নাম যেভাবে তালিকায় ঢুকিয়েছেন, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তালিকায় শাহিনুর আলমের স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ওই নামটি বাদ দিয়ে সেখানে একজন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বর্তমানে লেংগুরা ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে।’

কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাই যেন সরকারি সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।’

পোগলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন যে, অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালিকায় এই নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কেবল বদলি নয়, বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এই অসাধু কর্মকর্তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর